বিবাহবিচ্ছেদ বা বৈধব্যের পর বিয়ের বায়োডাটা যেভাবে লিখবেন
বিয়ের বায়োডাটায় বিবাহবিচ্ছেদ বা স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর কথা কীভাবে লিখবেন: কোথায় লিখবেন, কোন ভাষায়, সন্তান নিয়ে কী বলবেন, আর কোন ব্যাখ্যা কাউকে দিতে বাধ্য নন।
বিয়ের বায়োডাটায় বিবাহবিচ্ছেদ বা স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর কথা কীভাবে লিখবেন: কোথায় লিখবেন, কোন ভাষায়, সন্তান নিয়ে কী বলবেন, আর কোন ব্যাখ্যা কাউকে দিতে বাধ্য নন।

ধানমন্ডিতে প্রায় রাত একটা, চৌত্রিশ বছরের একজন নারী এমন একটি ওয়ার্ড ফাইলের দিকে তাকিয়ে আছেন যেটি তিনি এ পর্যন্ত এগারোবার খুলেছেন। শিক্ষার ঘরটা সহজ। চাকরির ঘরটাও। যে লাইনটি তিনি লিখতে পারছেন না সেটি চার বছর আগের সেই এগারো মাসের সংসার নিয়ে — আর যতবার লেখেন, ততবারই সেটি হয় স্বীকারোক্তির মতো শোনায়, নয়তো আড়াল করার চেষ্টার মতো।
ওই লাইনটি লেখার আরও ভালো একটি উপায় আছে, আর তা তাঁর চেষ্টা করা যেকোনো সংস্করণের চেয়ে ছোট। এই লেখাটি একটি ধারণার ওপর দাঁড়ানো ডিভোর্সি বায়োডাটার ফরম্যাট: শুরুতেই জানান, সংক্ষেপে বলুন, আর ভবিষ্যৎ নিয়ে লেখা কাগজকে অতীতের প্রতিবেদন বানাতে দেবেন না।
এ নিয়ে যত নীরবতাই থাকুক, বাংলাদেশে পুনর্বিবাহ যতটা ভাবা হয় তার চেয়ে অনেক বেশি সাধারণ। ঢাকা নিয়ে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এক বছরে রাজধানীতে প্রায় ১৩,২৮৮টি বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়েছে — অর্থাৎ প্রতি চল্লিশ মিনিটে একটি — আর এর বড় অংশ করেছেন নারীরাই। বিবিএসের তথ্যেও একই সময়ে জাতীয় বিবাহবিচ্ছেদের হার দ্রুত বেড়েছে।
এ থেকে দুটি কথা আসে। এক, যাঁরা আপনার বায়োডাটা পড়ছেন, প্রকাশ্যে যা-ই বলুন, তাঁদের আত্মীয়দের মধ্যেই একই অবস্থার মানুষ আছেন। দুই, আপনার মতোই সিরিয়াস, ভালো মানুষজন অনেকেই খুঁজছেন। আপনি তাঁদের জন্যই লিখছেন — ডিভোর্স শব্দটি দেখে যারা সরে যাবে তাদের জন্য নয়।
এই বিষয়ের সব সমস্যার শুরু ক্রম ভুল হওয়ায়। দেরিতে জানালে সেটি লুকানোর মতো লাগে, দেরিটা যত নিরীহ কারণেই হোক। আবার লম্বা ব্যাখ্যাসহ জানালে জেরার আমন্ত্রণ তৈরি হয়, কারণ একটি অনুচ্ছেদ লাইন ধরে ধরে আলোচনার দাবি রাখে।
যে নিয়মটি কাজ করে: তথ্যটি বায়োডাটাতেই এক-দুই লাইনে লিখে দিন, আর ঘটনার বিস্তারিত রাখুন সেই পরিবারের সঙ্গে আলোচনার জন্য যারা ইতিমধ্যে আপনাকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে। যে আপনার পরিস্থিতি মেনে নেবে, তার প্রথম দিনেই লিখিত খুঁটিনাটি লাগে না।
বৈবাহিক অবস্থা লিখুন ব্যক্তিগত অংশে, জন্মতারিখের ঠিক পরেই। নিচে নয়, পাদটীকায় নয়, ঘটকের ওপর ছেড়ে দিয়েও নয়। তারপর কেবল তথ্যেই থাকুন।
লক্ষ করুন, এই লাইনগুলোতে যা নেই: দোষারোপ, রোগের বিবরণ, টাকার হিসাব, শ্বশুরবাড়ির ইতিহাস, কিংবা দুর্ভাগ্যবশত শব্দটি। শান্ত ও সম্পূর্ণ একটি লাইন বুঝিয়ে দেয় মানুষটি যা ঘটেছে তা সামলে উঠেছেন — অন্য পক্ষ ঠিক এটিই বোঝার চেষ্টা করছে।
বেশিরভাগ সম্বন্ধ এই অংশেই ঠিক হয়, তাই এখানে সংকোচ নয়, স্পষ্টতা দরকার। তিনটি তথ্য দিন এবং থামুন: কতজন সন্তান, তাদের বয়স, আর তারা কার কাছে থাকে। অভিভাবকত্ব বা ব্যবস্থা চূড়ান্ত হয়ে থাকলে একটি লাইন যোগ করুন।
একবার বলুন, শুরুতেই বলুন। তৃতীয় সপ্তাহে সন্তানের কথা জানলে পরিবারটির মনে হয় তাদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে, কিছু লুকানো না হলেও। এমন সংসার প্রথম বছরে বাস্তবে কীভাবে থিতু হয় তা আছে সন্তানসহ পুনর্বিবাহ লেখায়।
বৈধব্য বিবাহবিচ্ছেদ নয়, আর একই সুরে লেখাও উচিত নয়। এখানে ব্যাখ্যা করার মতো কোনো বিচ্ছেদ নেই, কারও ঘাড়ে দোষ চাপানোরও প্রশ্ন নেই — পরিবারগুলো সাড়া দেয় সহজ ও ধীর সুরেই।
একটি তথ্যনির্ভর লাইনই যথেষ্ট। রোগের নাম বা কবে ধরা পড়েছিল, কিছুই লিখতে হবে না। শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক থেকে থাকলে সেটি জটিলতা নয়, বরং কাজের তথ্য — অনেক পরিবার একে ভালো লক্ষণ হিসেবেই দেখে। ইসলামে বিধবার বিয়ের স্পষ্ট অনুমোদন আছে এবং এটি স্বাভাবিক ও সম্মানজনক; সামাজিক দিকটি নিয়ে আলোচনা আছে বাংলাদেশে বিধবা বিবাহ লেখায়।
দুটি বাস্তব বিষয়, আর দুটোই ধরে না নিয়ে নিজের ক্ষেত্রে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।
প্রথমত, সময়। ইসলামে তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর পর নারী ইদ্দত পালন করেন, আর বিয়ে হয় তা শেষ হওয়ার পর। দুই পরিস্থিতিতে মেয়াদ আলাদা, আর গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রে আলাদা বিধান আছে। এসব ব্যাখ্যা করা আছে ইদ্দতের সময়কাল লেখায়। এর আগে পরিবার খোঁজখবর শুরু করায় ধর্মীয় আপত্তি নেই, তবে নিকাহ অপেক্ষা করে।
দ্বিতীয়ত, কাগজপত্র। বাংলাদেশে কেবল তালাক উচ্চারণ করলেই বা ঘরে বসে একটি ফরমে সই করলেই বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয় না। চেয়ারম্যানকে নোটিশ দিতে হয় এবং মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়, আর বিচ্ছেদ নিবন্ধন করাতে হয়। প্রথম আলোতে যে আইনগুলো সবচেয়ে বেশি জানা দরকার তার সহজ ভাষায় একটি সারসংক্ষেপ আছে। নিজের বিচ্ছেদ ঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না নিশ্চিত না হলে পুনরায় বিয়ের পরে নয়, আগেই আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
গত কয়েকটি বছর ভারী গেলে পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা শুরুর আগে একজন কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলায় লজ্জার কিছু নেই। দাম্পত্য ও পারিবারিক কাউন্সেলিং কখন সত্যিই কাজে লাগে — এই আলোচনাটি দ্বিধায় থাকা যে কারও জন্য ভালো একটি শুরু।
পুনর্বিবাহের সবচেয়ে কঠিন অংশ লেখা নয়। কঠিন অংশ বাছাই — সেইসব মানুষকে ছেঁকে ফেলা যাঁরা চান কেউ জানবে না এমন একটি চুপচাপ দ্বিতীয় বিয়ে, কিংবা যাঁরা বিধবা বা ডিভোর্সিকে সস্তা বিকল্প মনে করেন। এক একটি ফোনালাপ ধরে এই বাছাই করা ক্লান্তিকর।
amarjibon-এ বৈবাহিক অবস্থা শুরু থেকেই প্রোফাইলের অংশ, ফলে যাঁরা যোগাযোগ করছেন তাঁরা সেটি আগেই পড়ে নিয়েছেন। প্রতিটি প্রোফাইল এনআইডি ও লাইভনেস সেলফি দিয়ে যাচাই করা, প্ল্যাটফর্মটি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই, প্রথম আলাপ থেকেই পরিবার যুক্ত থাকতে পারে, আর আপনি না চাইলে ফোন নম্বর গোপন থাকে। আপনার কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ সেই শর্তেই খুঁজতে পারেন, সন্তানসহ সঙ্গী নিয়ে কেউ প্রস্তুত কি না তাও। পুরো প্রক্রিয়ার বাস্তব দিকনির্দেশনা আছে বাংলাদেশে ডিভোর্সের পর পুনর্বিবাহ লেখায়।
**amarjibon.com-এ বিনামূল্যে প্রোফাইল খুলুন, অথবা অ্যাপটি নামিয়ে নিন Google Play বা App Store থেকে।** বিয়ে, সিরিয়াসভাবে।
ঠিক করে ফেলেছেন খোঁজা শুরু করবেন। কাজের কথাগুলো এখানে। সিরিয়াস হচ্ছি →
এই বিষয়ে পাঠকেরা যা সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করেন।
হ্যাঁ, ব্যক্তিগত অংশে, জন্মতারিখের ঠিক পরেই। এক-দুই লাইনের তথ্যই যথেষ্ট। দেরিতে জানালে কিছু লুকানো না হলেও লুকানোর মতো শোনায়, আর ভালো একটি সম্বন্ধ ভাঙার সবচেয়ে সাধারণ কারণ এটিই।
বায়োডাটায় তথ্যের বাইরে কিছুই নয়। কথায় দোষারোপ ছাড়া একটি সৎ বাক্য। লিখিত লম্বা ব্যাখ্যা জেরার আমন্ত্রণ জানায়, আর সহজ একটি পরিস্থিতিকে জটিল দেখায়।
ইদ্দতের সময় শেষ হওয়ার পর, এবং বিচ্ছেদটি আইনগতভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর। বাংলাদেশে এর মানে চেয়ারম্যানকে নোটিশ ও মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী প্রক্রিয়া শেষ করা এবং বিচ্ছেদ নিবন্ধন করা। নিজের বিচ্ছেদ ঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না নিশ্চিত না হলে বিয়ের আগেই আইনজীবীর সঙ্গে যাচাই করে নিন।
হ্যাঁ। কতজন, বয়স কত আর কার কাছে থাকে — এই পর্যায়ে এটুকুই। ফরোয়ার্ড হবে এমন ফাইলে ছবি নয়, পুরো নামও নয়। পরে সন্তানের কথা জানলে পরিবারগুলোর মনে হয় তাদের অন্ধকারে রাখা হয়েছে, আর সেখান থেকে ফেরা অনেক কঠিন।

পাত্রীর বায়োডাটার পূর্ণ নমুনা, সঙ্গে স্পষ্ট কথা — গায়ের রং, ওজন কিংবা যৌতুকের ইঙ্গিত: এসব কোনোভাবেই বায়োডাটায় থাকা উচিত নয়।

একজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বিসিএস ক্যাডার, ব্যাংকার বা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বিয়ের বায়োডাটা কীভাবে লিখবেন — পেশার ঘর, সৎ প্রমাণ, আর যে ভুলগুলো ভালো বায়োডাটাকেও দুর্বল দেখায়।

বিয়ের বায়োডাটার ছবি নিয়ে বাস্তব নিয়ম, পর্দার প্রশ্নের সৎ আলোচনা, আর ছবি পাঠানোর পর সত্যিই তার কী হয়।
যাচাই করা প্রোফাইল, অভিভাবক স্বাগত, আর আপনি না বলা পর্যন্ত কিছুই শেয়ার হয় না। দেখতে কোনো খরচ নেই।
ফ্রি প্রোফাইল বানান