টরন্টো ও স্কারবরোতে বাংলাদেশি ম্যাট্রিমনি
কানাডার সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি সমাজ টরন্টোতে, আর এর বেশিরভাগই এসেছেন গত কুড়ি বছরে। এই দুটি বিষয় মিলেই ঠিক করে দিচ্ছে এখানে বিয়ের ব্যাপারটা এখন কীভাবে চলে।
কানাডার সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি সমাজ টরন্টোতে, আর এর বেশিরভাগই এসেছেন গত কুড়ি বছরে। এই দুটি বিষয় মিলেই ঠিক করে দিচ্ছে এখানে বিয়ের ব্যাপারটা এখন কীভাবে চলে।

ভিক্টোরিয়া পার্কের পূর্বদিকে ড্যানফোর্থ অ্যাভিনিউয়ের একটা অংশে কয়েক ব্লকজুড়ে দোকানের সাইনবোর্ড বাংলা হয়ে যায়। মিষ্টির দোকান, হালাল মাংসের দোকান, ঢাকার টিকিটের বিজ্ঞাপন দেওয়া দুটি ট্রাভেল এজেন্সি — গরমের সন্ধ্যায় গোটা রাস্তাটাকে মনে হয় ঢাকা থেকে তুলে এনে পূর্ব টরন্টোয় বসিয়ে দেওয়া এক অনুচ্ছেদ। সেখানকার অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বললে ঘুরেফিরে একই কথা আসে: ছেলেমেয়ের ভবিষ্যতের জন্য এসেছিলাম, এখন মেয়ের ত্রিশ বছর, অথচ এখানে কারও পরিবারকেই আমরা চিনি না।
টরন্টোয় বাংলাদেশি ম্যাট্রিমনির মূল কথাটা এটাই। কানাডার সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি সমাজ এখানে, অনেক ব্যবধানে; আবার সবচেয়ে নতুন সমাজগুলোর একটিও এটি। মানুষ আছে। কিন্তু যে পরিচয়ের জাল তাঁদের একে অপরের কাছে পৌঁছে দেয়, সেটি এখনো গড়ে উঠছে।
স্ট্যাটিসটিকস কানাডার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের গবেষণা কানাডার দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিচ্ছবি অনুযায়ী, ২০২১ সালে কানাডায় বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষ ছিলেন প্রায় ৭৭,৩২৫ জন। ২০০১ সাল থেকে এই সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২৬৭ শতাংশ — কুড়ি বছরে প্রায় চার গুণ — আর এর বড় অংশ টরন্টো মহানগর এলাকায় কেন্দ্রীভূত।
একই গবেষণার কয়েকটি তথ্য যেকোনো গল্পের চেয়ে ভালোভাবে এখানকার বিয়ের বাস্তবতা বোঝায়:
এটি বাস্তব অর্থেই গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিসেন্ট টাউনের একটি পরিবার আর অ্যাজাক্সের একটি পরিবারের দূরত্ব ৪০১ ধরে পঁয়তাল্লিশ মিনিট — দেখা করার জন্য যথেষ্ট কাছে, আবার এতটাই দূরে যে তাঁরা কখনো একে অপরের নামই শোনেননি।
অর্থনৈতিক অভিবাসনের পথটি শিক্ষা দেখে বাছে, আর বয়সও বাছে। মানুষ আসেন ২৮, ৩০, ৩২ বছরে, হাতে মাস্টার্স ডিগ্রি আর একটা পরিকল্পনা নিয়ে; দুই-তিন বছর যায় এমন একটি ক্যারিয়ার নতুন করে দাঁড় করাতে যা এখানে হুবহু চলেনি; তারপর একদিন টের পান, বিয়ের প্রশ্নটি কেউ পিছিয়ে দিতে না চাইলেও পিছিয়ে গেছে।
স্ট্যাটিসটিকস কানাডার গবেষণা আরও বলছে, ২৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারীদের মধ্যে কর্মে যুক্ত ছিলেন মাত্র ৫৫ শতাংশ — এত উচ্চশিক্ষিত একটি গোষ্ঠীর জন্য যা কম, আর অনেকেই কাজ করছেন যোগ্যতার চেয়ে অনেক নিচে। টরন্টোয় বিয়ের আলোচনায় এর ছাপ পড়ে এমনভাবে, যা পরিবারগুলো সচরাচর মুখে বলে না — কার পেশা অগ্রাধিকার পাবে, কে নতুন করে পড়বে, আর একজন পড়ার সময় সংসার কে টানবে।
ধরে নেওয়ার চেয়ে শুরুতেই খোলাখুলি বলে নেওয়া ভালো। এখনো কথা না উঠে থাকলে বিয়ের আগে যে প্রশ্নগুলো করবেন দিয়ে শুরু করা যায়।
থিতু প্রবাসে প্রস্তাব আসে এমন মানুষের হাত ধরে, যাঁরা দুই পরিবারকেই কুড়ি বছর ধরে চেনেন। এই জনগোষ্ঠীকে নিয়ে টরন্টোর কুড়ি বছর কাটেনি। বেশিরভাগ পরিবার এসেছেন ২০০৫-এর পরে, অনেকে ২০১৫-এর পরে; আর যেসব সমিতি আছে, সেগুলো গড়ে উঠেছে জেলা, সংস্কৃতি আর ঈদ ঘিরে — সম্বন্ধ করানো ঘিরে নয়।
ফলে টরন্টোর খোঁজ আগে লিখিত, পরে মৌখিক। চট্টগ্রামে খালার এক ফোনকল যে ভার বহন করে, এখানে সেটি বহন করে প্রোফাইল — অর্থাৎ দায়সারা, অস্পষ্ট প্রোফাইলের খরচ এখানে দেশের চেয়ে অনেক বেশি। প্রোফাইলে কী থাকা উচিত তা আছে বিয়ের বায়োডাটা কীভাবে লিখবেন লেখায়।
টরন্টোর অনেক সম্বন্ধ হয় বাংলাদেশে বা তৃতীয় কোনো দেশে থাকা কারও সঙ্গে। কানাডার নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দারা স্ত্রী বা সঙ্গীকে স্থায়ী বসবাসের জন্য স্পন্সর করতে পারেন; যোগ্যতা, স্পন্সরের দায়বদ্ধতা ও আবেদনের ধাপগুলো দেওয়া আছে ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার স্পাউস ও পার্টনার স্পন্সরশিপ পাতায়।
দুটি কথা স্পষ্ট করে বলা দরকার। প্রসেসিং সময় ও শর্ত বদলায়, তাই তারিখ ঠিক করার আগে বর্তমান অবস্থা যাচাই করুন এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট বা আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার কথা ভাবুন। আর সম্পর্কটি সত্যিকারের হতে হবে এবং সেভাবেই নথিভুক্ত থাকতে হবে — কোনো পক্ষেরই এই পথটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
বাংলাদেশের দিকে বিয়ে যথাযথভাবে নিবন্ধন করতে হবে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী, আর কাবিননামা সাধারণত সত্যায়ন করাতে হয়। কোর্ট ম্যারেজসহ প্রবাসীদের জন্য ধাপগুলো বাংলায় ব্যাখ্যা করা আছে এই আলোচনায়, আর বড় পরিসরের পরিকল্পনা আছে প্রবাসীদের বিদেশে নিকাহ লেখায়।
টরন্টোর পরিবারগুলো প্রায়ই খোঁজ ছড়িয়ে দেয় অটোয়া, মন্ট্রিয়ল, ক্যালগেরি, এডমন্টন ও উইনিপেগ পর্যন্ত, যেখানে প্রাদেশিক মনোনয়ন ও পড়াশোনার পথ ধরে ছোট বাংলাদেশি সমাজগুলো দ্রুত বেড়েছে। দেশের ভেতরের একটি ফ্লাইট অভিবাসন আবেদনের তুলনায় অনেক ছোট বাধা। পরের পাঠ হিসেবে স্বাভাবিক পছন্দ মন্ট্রিয়ল, ক্যালগেরি ও পশ্চিম কানাডায় বাংলাদেশি ম্যাট্রিমনি।
amarjibon দেশে ও প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের জন্যই তৈরি একটি ম্যাট্রিমনি প্ল্যাটফর্ম। প্রতিটি প্রোফাইল এনআইডি ও লাইভনেস সেলফি দিয়ে যাচাই করা — দুই পক্ষের কোনো সাধারণ পরিচিত না থাকলে টরন্টোর পরিবারের ঠিক এই নিশ্চয়তাটিই দরকার। প্ল্যাটফর্মটি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই, তাই স্কারবরোর মেয়ে আর সিলেটের বাবা-মা দুজনেই ব্যবহার করতে পারেন, আর প্রথম আলাপ থেকেই পরিবার যুক্ত থাকতে পারে।
টরন্টোর সম্বন্ধে যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ, সেসব ধরেই ফিল্টার করা যায় — শহর ও প্রদেশ, অভিবাসন স্ট্যাটাস, ধর্মচর্চার মাত্রা, শিক্ষা, পেশা, নিজ জেলা, আর জায়গা বদলাতে রাজি কি না। পেছনে মিলের কাজটি করে PremEngine। প্রোফাইল খোলা বিনামূল্যে, আর আপনি না চাইলে আপনার ফোন নম্বর গোপন থাকে।
**amarjibon.com-এ বিনামূল্যে প্রোফাইল খুলুন, অথবা অ্যাপটি নামিয়ে নিন Google Play বা App Store থেকে।** বিয়ে, সিরিয়াসভাবে।
কথা চলছে, পরিবারও জড়িয়েছে। এরপর কী? দেখা করার সময় →
এই বিষয়ে পাঠকেরা যা সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করেন।
স্ট্যাটিসটিকস কানাডার হিসাবে ২০২১ সালে কানাডায় বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষ ছিলেন প্রায় ৭৭,৩২৫ জন, যা ২০০১ সালের তুলনায় প্রায় ২৬৭ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে বড় কেন্দ্র টরন্টো মহানগর এলাকা, বিশেষ করে স্কারবরো ও ড্যানফোর্থ অঞ্চল।
কানাডার নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দারা স্ত্রী, কমন-ল বা কনজুগাল সঙ্গীকে স্থায়ী বসবাসের জন্য স্পন্সর করতে পারেন, যোগ্যতা ও স্পন্সরশিপ দায়বদ্ধতা সাপেক্ষে। শর্ত ও সময় বদলায়, তাই তারিখ ঠিক করার আগে আইআরসিসির বর্তমান নির্দেশনা দেখুন এবং পেশাদার পরামর্শ নেওয়ার কথা ভাবুন।
বেশিরভাগই এসেছেন অর্থনৈতিক অভিবাসী হিসেবে, বিশের শেষ বা ত্রিশের কোঠায়; তারপর বছরের পর বছর গেছে এমন পেশা নতুন করে দাঁড় করাতে, যা সরাসরি স্বীকৃত হয়নি। এর সঙ্গে যোগ করুন নতুন সমাজ আর পরিচিতের নেটওয়ার্কের অভাব — ফলে খোঁজটাই লম্বা হয়। এটি কাঠামোগত বাস্তবতা, ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়।
না। amarjibon বিয়ের উদ্দেশ্যে তৈরি একটি ম্যাট্রিমনি প্ল্যাটফর্ম। প্রোফাইল এনআইডি ও লাইভনেস সেলফি দিয়ে যাচাই করা, প্রথম থেকেই পরিবার যুক্ত থাকতে পারে, প্ল্যাটফর্মটি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই, আপনি না দিলে ফোন নম্বর গোপন থাকে, আর প্রোফাইল খোলা বিনামূল্যে।

মালয়েশিয়ায় আট লাখেরও বেশি বাংলাদেশির ওয়ার্ক পারমিট, সিঙ্গাপুরে আরও প্রায় দেড় লাখ। প্রায় সবাই পুরুষ, আর পারমিটে পরিবার নেওয়ার সুযোগ নেই — তাই বিয়ের খোঁজটা চলে দেশ থেকেই। কাজটা গুছিয়ে করার উপায়।

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী ছোট, তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত — আর সেখানে বাংলাদেশি নারী প্রায় নেই বললেই চলে। এই ঘাটতি আর ভিসার নিয়মই ঠিক করে দেয় এখানকার বিয়েগুলো বাস্তবে কীভাবে হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সবচেয়ে বড় অংশ সিডনিতে, আর শিক্ষার হারে এই প্রবাসী সমাজ বিশ্বের যেকোনো জায়গার চেয়ে এগিয়ে। আদমশুমারি কী বলছে, আর পাত্র-পাত্রী খোঁজার জন্য তার মানে কী।
যাচাই করা প্রোফাইল, অভিভাবক স্বাগত, আর আপনি না বলা পর্যন্ত কিছুই শেয়ার হয় না। দেখতে কোনো খরচ নেই।
ফ্রি প্রোফাইল বানান