জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি ম্যাট্রিমনি
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী ছোট, তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত — আর সেখানে বাংলাদেশি নারী প্রায় নেই বললেই চলে। এই ঘাটতি আর ভিসার নিয়মই ঠিক করে দেয় এখানকার বিয়েগুলো বাস্তবে কীভাবে হয়।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী ছোট, তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত — আর সেখানে বাংলাদেশি নারী প্রায় নেই বললেই চলে। এই ঘাটতি আর ভিসার নিয়মই ঠিক করে দেয় এখানকার বিয়েগুলো বাস্তবে কীভাবে হয়।

সুকুবায় পিএইচডি করা এক তরুণ গত বসন্তে মাঠপর্যায়ের কাজ শেষ করে টোকিওর কাছে গবেষণার চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। নয় বছরের মধ্যে এই প্রথম তাঁর হাতে বেতন আছে, ভিসাও এমন যে বিয়ে করা যায়। বয়স চৌত্রিশ। আটাশ বছর বয়স থেকেই মা বায়োডাটা পাঠাচ্ছেন। সমস্যা এই নয় যে তিনি রাজি হননি। সমস্যা হলো, পুরো ইবারাকি অঞ্চলে তাঁর চেনা অবিবাহিত বাংলাদেশি নারীর সংখ্যা ঠিক চার — তাঁদের তিনজন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনিয়র, আর একজন তাঁরই চাচাতো বোন।
জাপানে বাংলাদেশি ম্যাট্রিমনির প্রধান বৈশিষ্ট্য এটিই, আর দক্ষিণ কোরিয়ায় বিষয়টি আরও তীব্র। মর্যাদাপূর্ণ গন্তব্য, ছোট ও তরুণ শিক্ষিত জনগোষ্ঠী — কিন্তু বিয়ে করার মতো স্থানীয় পরিসর প্রায় নেই। বাকি সব সিদ্ধান্তই এখান থেকে আসে।
জাপানের অভিবাসন পরিসংখ্যানে ২০২৫ সালের জুনে বাংলাদেশি বাসিন্দার সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০,০৪৫ জন। দক্ষিণ কোরিয়ায় আছেন প্রায় ২৫,০০০ জন, যাঁদের বেশিরভাগই ইপিএস পদ্ধতিতে যাওয়া কর্মী। উপসাগরীয় দেশের তুলনায় দুটোই ছোট সংখ্যা, আর দুটোতেই পুরুষের আধিক্য।
তুলনার জন্য: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গেছেন ১১ লাখ ২৫ হাজার কর্মী, যাঁদের মধ্যে নারী মাত্র ৬১,৯৯৭ জন। এর খুব সামান্য অংশই যায় পূর্ব এশিয়ায় — আর এ কারণেই এই জনগোষ্ঠীগুলো ছোট থাকে এবং ভেতরে বিয়ে করা কঠিন হয়।
লন্ডনে একটি বাংলাদেশি পরিবার কয়েকটি বরোর ভেতরেই সম্বন্ধ পাওয়ার আশা করতে পারে। টোকিওতে গোটা যোগ্য পরিসরটি হয়তো একটি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের সমান। গিয়ংগির কোনো শিল্প শহরে তা শূন্যও হতে পারে।
এর তিনটি ফল আছে, আর এই অবস্থায় থাকা প্রতিটি পরিবারই সেগুলোর মুখে পড়ে:
জাপান ও কোরিয়াকে এক বাজার ভাববেন না। প্রোফাইলের ওপাশের মানুষটি সাধারণত দুটি অবস্থার একটিতে থাকেন।
শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী, মূলত জাপানে। ভাষা স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে প্রকৌশল, আইটি, গবেষণা বা বিশেষজ্ঞ কাজ। আয় নথিভুক্ত, পেশা স্থিতিশীল, আর উপযুক্ত রেসিডেন্স স্ট্যাটাস থাকলে পরিবার নেওয়ার সুযোগও আছে — আয় ও বাসস্থানের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে।
ইপিএস কর্মী, মূলত কোরিয়ায়। নির্দিষ্ট মেয়াদের কারখানার চাকরি, থাকার সর্বোচ্চ সময় বাঁধা, ওই স্ট্যাটাসে স্ত্রীকে নেওয়ার বাস্তব সুযোগ নেই, আর পরিকল্পনাটাই গড়ে ওঠে সঞ্চয় করে ফিরে আসার ওপর। এটি সৎ ও সম্মানজনক কাজ, আর সেভাবেই সৎ করে বলা উচিত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একই ধরনের কাঠামো আছে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি ম্যাট্রিমনি লেখায়।
দুই দেশেই ভিসার শ্রেণি বদলায়, আর পরিবার নেওয়ার অধিকারও একেক দেশে একেক রকম। কেউ এর ওপর ভিত্তি করে জীবনের পরিকল্পনা করার আগে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বা দক্ষ পরামর্শকের কাছ থেকে বর্তমান অবস্থা জেনে নিন।
তিনি যদি সঙ্গে যান, তবে প্রশ্নগুলো আবেগের নয়, বাস্তবের — আর সেগুলো আকদের আগেই করা দরকার।
জাপান ও কোরিয়া বাংলাদেশের চেয়ে তিন ঘণ্টা এগিয়ে, অর্থাৎ টোকিওতে রাত ১০টা মানে ঢাকায় সন্ধ্যা ৭টা — প্রবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাজনক সময়গুলোর একটি। এটিকে কাজে লাগান।
বেশিরভাগ দম্পতি দেশে ছোট এক সফরে বিয়ে করেন। মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী লাইসেন্সধারী কাজীর মাধ্যমে নিবন্ধন করান, সই করার আগে কাবিননামা পড়ুন, আর ফেরার আগেই সত্যায়িত কপি নিয়ে নিন।
পরিবার নেওয়ার আবেদনের সামান্য সম্ভাবনা থাকলেও সঙ্গে সঙ্গে সত্যায়িত ইংরেজি অনুবাদ ও অ্যাটেস্টেশন করিয়ে রাখুন, আর নাম-তারিখ পাসপোর্টের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে নিন। ধাপগুলোর সাধারণ ক্রম দেখানো আছে প্রবাসীদের বিদেশ থেকে বিয়ে নিয়ে এই আলোচনায়, আর বিস্তারিত আছে প্রবাসীদের বিদেশে নিকাহ লেখায়।
বাংলাদেশি পরিবারে জাপান ও কোরিয়ার আলাদা মর্যাদা আছে, আর মর্যাদা প্রত্যাশাকে বাড়িয়ে দেয়। গবেষণার বৃত্তি অধ্যাপকের বেতন নয়। আনসানের কারখানার মজুরি থেকে থাকা-খাওয়া আর দেশে পাঠানো টাকা বাদ দিলে যা থাকে, বিনিময় হার দেখে তা বোঝা যায় না। আসল অঙ্কটাই বলুন।
দেনমোহর এমন ধরুন যা বর সত্যিই দিতে পারবেন, আর একই সময়ে উশুল-বাকির ভাগও ঠিক করে নিন। উল্টো দিকটাও পরিষ্কার থাকা চাই।
যৌতুক চাওয়া, দেওয়া বা নেওয়া যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পাত্র বিদেশে আছেন বলে কোনো পক্ষেরই কিছু দাবি করার সুযোগ তৈরি হয় না।
স্থানীয় পরিসর যখন মাত্র চারজন, তখন খোঁজের মাধ্যমটি কেমন — তা আর সব জায়গার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। amarjibon দেশে ও প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য তৈরি ম্যাট্রিমনি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রতিটি প্রোফাইল এনআইডি ও লাইভনেস সেলফি দিয়ে যাচাই করা।
নিজ জেলা ও উপজেলা, শিক্ষা ও পেশা, ধর্মচর্চার মাত্রা, কাজ ও থাকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রত্যাশা ধরে ফিল্টার করা যায়, আর আপনি জাপান বা কোরিয়ায় আছেন এবং ভিসায় কী সুযোগ আছে — তা স্পষ্ট করে লেখা যায়। প্ল্যাটফর্মটি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই, প্রথম আলাপ থেকেই পরিবার যুক্ত থাকতে পারে, আর আপনি না চাইলে ফোন নম্বর গোপন থাকে।
**amarjibon.com-এ বিনামূল্যে প্রোফাইল খুলুন, অথবা অ্যাপটি নামিয়ে নিন Google Play বা App Store থেকে।** বিয়ে, সিরিয়াসভাবে।
কথা চলছে, পরিবারও জড়িয়েছে। এরপর কী? দেখা করার সময় →
এই বিষয়ে পাঠকেরা যা সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করেন।
জাপানের অভিবাসন পরিসংখ্যানে ২০২৫ সালের জুনে বাংলাদেশি বাসিন্দা ছিলেন প্রায় ৪০,০৪৫ জন, মূলত টোকিও ও কান্তো অঞ্চলে। দক্ষিণ কোরিয়ায় আছেন প্রায় ২৫,০০০ জন, যাঁদের বেশিরভাগই ইপিএস কর্মী, আনসান ও হোয়াসং ঘিরে গিয়ংগি শিল্পবলয়ে।
জাপানে অনেক কাজ ও পড়াশোনার স্ট্যাটাসে তা সম্ভব, তবে আয় ও বাসস্থানের শর্ত সাপেক্ষে। কোরিয়ার ইপিএস কর্মীরা সাধারণত ওই স্ট্যাটাসে স্ত্রীকে নিতে পারেন না। দুই দেশেই নিয়ম বদলায়, তাই কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে নিজের শ্রেণিটি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করে নিন।
দুই দেশেই জনগোষ্ঠী ছোট এবং প্রায় পুরোটাই পুরুষ, ফলে অবিবাহিত বাংলাদেশি নারীর স্থানীয় পরিসর খুব সীমিত, বিশেষ করে বড় শহরের বাইরে। বেশিরভাগ মানুষ পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে দেশে খোঁজেন এবং নিজের পরিচিত গণ্ডির বাইরে যেতে যাচাইকৃত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন।
জাপান ও কোরিয়ার দম্পতিদের ক্ষেত্রে সাধারণত কয়েক মাস, কখনো প্রায় এক বছর — ভিসা প্রক্রিয়া, চুক্তির তারিখ ও যাতায়াতের ওপর নির্ভর করে। কত দিন পরপর কথা হবে, টাকা কে সামলাবে আর পরের সফর কবে — এসব আগেই ঠিক করে নিন, যাতে অপেক্ষার সময়টা কেবল সহ্য করা নয়, পরিকল্পিতভাবে কাটে।

কানাডার সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি সমাজ টরন্টোতে, আর এর বেশিরভাগই এসেছেন গত কুড়ি বছরে। এই দুটি বিষয় মিলেই ঠিক করে দিচ্ছে এখানে বিয়ের ব্যাপারটা এখন কীভাবে চলে।

মালয়েশিয়ায় আট লাখেরও বেশি বাংলাদেশির ওয়ার্ক পারমিট, সিঙ্গাপুরে আরও প্রায় দেড় লাখ। প্রায় সবাই পুরুষ, আর পারমিটে পরিবার নেওয়ার সুযোগ নেই — তাই বিয়ের খোঁজটা চলে দেশ থেকেই। কাজটা গুছিয়ে করার উপায়।

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সবচেয়ে বড় অংশ সিডনিতে, আর শিক্ষার হারে এই প্রবাসী সমাজ বিশ্বের যেকোনো জায়গার চেয়ে এগিয়ে। আদমশুমারি কী বলছে, আর পাত্র-পাত্রী খোঁজার জন্য তার মানে কী।
যাচাই করা প্রোফাইল, অভিভাবক স্বাগত, আর আপনি না বলা পর্যন্ত কিছুই শেয়ার হয় না। দেখতে কোনো খরচ নেই।
ফ্রি প্রোফাইল বানান