ময়মনসিংহের যাচাইকৃত পাত্র-পাত্রী: সিরিয়াস সম্বন্ধ যেভাবে খুঁজবেন
ময়মনসিংহ চলে দুই অর্থনীতিতে - একদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলের শহর, অন্যদিকে চারপাশের কৃষিনির্ভর জনপদ। এই দূরত্ব পেরিয়ে পরিবারগুলো কীভাবে সম্বন্ধ করে, আর কথা দেওয়ার আগে কী কী দেখে নেবেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একটি বায়োডাটা এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে ইমেইলের চেয়েও দ্রুত পৌঁছে যায়। কোনো শিক্ষক জানালেন, তাঁর মেয়ের মাস্টার্স শেষ। পরের সপ্তাহেই তিনজন সহকর্মী চুপচাপ খোঁজ নিয়েছেন, একজনের ভেটেরিনারি অনুষদে ভাতিজা আছে, আর কারও সঙ্গে দেখা হওয়ার আগেই সেই ছেলেটি সম্পর্কে পরিবারটি দুই রকম মত শুনে ফেলেছে।
বিশ কিলোমিটার দূরে ত্রিশাল বা ফুলবাড়িয়ার কোনো গ্রামে ঠিক একই খোঁজ চলে সম্পূর্ণ আলাদা লাইনে - জমি, বংশ, আর ইমাম ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পরিবারটি সম্পর্কে কী জানেন তার ওপর। ময়মনসিংহে পাত্র-পাত্রী খোঁজা মানে প্রায় সবসময়ই একসঙ্গে এই দুই ধারাতেই কাজ করা, আর যাঁরা কাজটি ভালো পারেন তাঁরা বোঝেন কোন মুহূর্তে কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে।
সবচেয়ে নতুন বিভাগ, নিচে খুব পুরোনো এক শহর
২০১৫ সালে ময়মনসিংহ বাংলাদেশের অষ্টম বিভাগ হয়, কিন্তু শহরটি দেশের প্রাচীনতম শিক্ষাকেন্দ্রগুলোর একটি। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পুরোনো ব্রহ্মপুত্র, একদিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে নিয়মিত চিকিৎসক বেরোচ্ছেন, আর কিছুটা দূরে ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।
এসবের চারপাশে রয়েছে কৃষিনির্ভর বিস্তীর্ণ জনপদ - ভালুকা, গফরগাঁও, মুক্তাগাছা, ঈশ্বরগঞ্জ, ফুলপুর, আর আরও দূরে নেত্রকোণা, জামালপুর ও শেরপুর। ভালুকায় যোগ হয়েছে কারখানা আর ঢাকামুখী একটি কর্মজীবী জনগোষ্ঠী। ফলে এখানকার বিয়ের বাজারে দুটি স্পষ্ট আলাদা অংশ আছে, যারা নিয়মিতই একে অপরের সঙ্গে সম্বন্ধ করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহর মানুষের চাহিদাই বদলে দেয়
ময়মনসিংহের শিক্ষক ও চিকিৎসক পরিবারগুলোতে সম্বন্ধ ঠিক করে দেয় বেশ নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন:
- কোন প্রতিষ্ঠান, কোন বিষয়। বাকৃবির কৃষিবিদ, ময়মনসিংহ মেডিকেলের চিকিৎসক আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ - এই পরিবারগুলোর কাছে তিনটি খুব আলাদা করে পড়া হয়, যুক্তিসঙ্গত হোক বা না হোক।
- পোস্টিং কোথায় হবে। গ্রামে পদায়ন শেষ করা একজন চিকিৎসক, বদলির অপেক্ষায় থাকা একজন বিসিএস কর্মকর্তা আর একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক - আগামী পাঁচ বছরের মানচিত্র তিনজনের তিন রকম।
- দুজনের পেশা কি একসঙ্গে টিকবে। দুই পেশাজীবীর দুই জেলায় পোস্টিং খুব পরিচিত এবং সমাধানযোগ্য সমস্যা, তবে কেবল তখনই - যখন আকদের পরে নয়, আগেই এ নিয়ে কথা হয়।
সরকারি চাকরি বা স্বাস্থ্য খাতে খুঁজলে পোস্টিং, ক্যাডার ও চাকরির তথ্য কীভাবে ভদ্রভাবে যাচাই করবেন তা আছে সরকারি চাকরিজীবী পাত্র-পাত্রী খোঁজা লেখায়।
ক্যাম্পাসের বাইরে: কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো কী দেখে
শহরের বাইরে মাপকাঠি বদলায়, কিন্তু কড়াকড়ি একটুও কমে না। জমি, পরিবারের আকার, বাবার সুনাম, পরিবারে বিরোধ-বিবাদের ইতিহাস আছে কি না, আর বড় ভাইবোনদের বিয়েগুলো কেমন টিকেছে। এর কোনোটিই সেকেলে নয়। কাগজপত্র ছাড়াই প্রজন্মের পর প্রজন্ম চলা এটি একটি যাচাই-ব্যবস্থা।
তবে এই ব্যবস্থার একটি সীমা আছে - নেটওয়ার্কের বাইরের কাউকে এটি যাচাই করতে পারে না। যাচাইকৃত প্রোফাইলের জায়গা ঠিক সেখানেই। খোঁজ নেওয়া চাচাকে সরিয়ে দিতে নয়, বরং তাঁর হাতে একটি সত্যিকারের নাম, সত্যিকারের ছবি আর নিশ্চিত পরিচয় তুলে দিতে - যা নিয়ে তিনি খোঁজ নিতে পারেন।
যে স্বাস্থ্য-আলাপটা কেউ শুরু করতে চায় না
বিয়ের আগের মেডিকেল টেস্টকে বাংলাদেশের অনেক পরিবার এখনো অপমান মনে করে, যা মোটেও উচিত নয়। থ্যালাসেমিয়ার বাহক হওয়া এর সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ: দুজন বাহকের বিয়ে হলে সন্তানের মধ্যে একটি গুরুতর ও আজীবনের রোগ যেতে পারে, অথচ দুজনের কারও শরীরেই আগে থেকে কোনো লক্ষণ থাকে না। বিয়ের আগে এই পরীক্ষার কথা বাংলাদেশের চিকিৎসকরা বছরের পর বছর বলে আসছেন, যেমনটি এসেছে কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে, আর কোন রক্ত পরীক্ষাগুলো করানো দরকার তা নিয়ে লিখেছে এনটিভি।
শহরে মেডিকেল কলেজ থাকায় ময়মনসিংহের পরিবারগুলোর এটি এড়ানোর অজুহাত অন্যদের চেয়েও কম। আগেভাগে চান, দুই পক্ষের জন্যই চান, আর সন্দেহ নয় - স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবেই উপস্থাপন করুন। সাধারণত কোন কোন পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং কথাটি কীভাবে তুলবেন, তা আছে বিয়ের আগে মেডিকেল টেস্ট লেখায়।
পরীক্ষা চাওয়া কোনো অভিযোগ নয়। এটি শিক্ষার খোঁজ নেওয়ার মতোই স্বাভাবিক - যে প্রশ্নের উত্তর সন্তানকে দেওয়ার চেয়ে এখন দেওয়াই ভালো।
শিক্ষিত পরিবারগুলো আসলে যে দুটি বিষয়ে তর্ক করে
প্রথমটি - মেয়ে চাকরি চালিয়ে যাবেন কি না। যে শহরে শিক্ষিত নারীদের বড় অংশ শিক্ষক, চিকিৎসক, কৃষিবিদ বা ব্যাংক কর্মকর্তা, সেখানে এ নিয়ে না-বলা ধারণাই প্রথম বছরটিকে তিক্ত করার সবচেয়ে নিশ্চিত উপায়। বায়োডাটায় স্পষ্ট করে লিখুন, আর প্রথম পারিবারিক আলাপেই আবার বলুন। দুই পক্ষের কী কী জিজ্ঞেস করা উচিত তা আছে স্ত্রীর চাকরি নিয়ে প্রত্যাশা লেখায়।
দ্বিতীয়টি - দম্পতি কোথায় থাকবেন। ক্যাম্পাসের কোয়ার্টার, শহরের পারিবারিক বাড়ি, পোস্টিংয়ের কাছে ভাড়া বাসা, নাকি ছেলের গ্রামের বাড়িতে বাবা-মায়ের সঙ্গে - এগুলো চার রকম সংসার। কোনো প্রশ্নই রোমান্টিক নয়, আর দুটিই দ্বিতীয় বছরের তুলনায় এখন মিটিয়ে ফেলা অনেক সহজ।
পেশাজীবীর বায়োডাটা যেমন হওয়া উচিত
পেশাজীবীর বায়োডাটার কাজ সাধারণ বায়োডাটার চেয়ে আলাদা। এটি হবে সংক্ষিপ্ত, যাচাইযোগ্য আর বাড়তি কথা ছাড়া:
- প্রতিটি ডিগ্রির প্রতিষ্ঠান, বিষয় ও পাসের সাল, ধারাবাহিকভাবে।
- বর্তমান পদ, প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল, আর পদটি স্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক নাকি প্রশিক্ষণাধীন।
- পরিবারের তথ্য - বাবা-মায়ের পেশা এবং কতজন ভাইবোন এখনো নির্ভরশীল।
- নিজ জেলা ও উপজেলা - ময়মনসিংহের পরিবারগুলোর কাছে এটি এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
- ধর্মচর্চা, চাকরি নিয়ে প্রত্যাশা আর থাকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রত্যাশা - প্রতিটির জন্য একটি করে স্পষ্ট লাইন।
বিয়ের বায়োডাটা তৈরির ধাপে ধাপে বাংলা আলোচনাটি ভালো একটি নমুনা, আর পাতাটিকে সিভি বানিয়ে না ফেলে যোগ্যতা কীভাবে তুলে ধরবেন তা দেখানো আছে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারদের পেশাদার বায়োডাটা লেখায়।
শিক্ষিত জামাইয়ের বাড়তি দাম, আর কেন তা অপরাধ
এই অঞ্চলের কোথাও কোথাও একজন চিকিৎসক, বিসিএস কর্মকর্তা বা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়ে এমনভাবে কথা হয়, যেন ছেলের যোগ্যতার দামটা মেয়ের পরিবারকেই দিতে হবে। সেটি আসে আসবাব হয়ে, গাড়ি হয়ে, ফ্ল্যাটের খরচ হয়ে, ঋণ শোধে সাহায্য হয়ে।
টেবিলে যে নামেই ডাকা হোক, এটি যৌতুক - আর যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তা দেওয়া, নেওয়া ও দাবি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। amarjibon যৌতুকবিরোধী, আর যে পরিবার এভাবে আলাপ শুরু করে তারা জানিয়ে দেয় বিয়েতে তারা আসলে কী খোঁজে। ভালো শিক্ষা কাউকে সম্মান করার কারণ, দামের তালিকা নয়।
এখানে amarjibon কোথায়
amarjibon দেশে ও প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য তৈরি ম্যাট্রিমনি প্ল্যাটফর্ম, ডেটিং অ্যাপ নয়। প্রতিটি প্রোফাইল এনআইডি ও লাইভনেস সেলফি দিয়ে যাচাই করা, ফলে অন্য জেলায় পদায়িত কোনো পাত্র-পাত্রীকে দেখতে বসা ময়মনসিংহের পরিবার ফরোয়ার্ড হয়ে আসা ছবি নয়, নিশ্চিত পরিচয় দিয়েই শুরু করে। প্ল্যাটফর্মটি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই, আর প্রথম আলাপ থেকেই পরিবার যুক্ত থাকতে পারে।
এখানে সম্বন্ধ ঠিক করে দেয় যেসব বিষয়, সেগুলো ধরেই ফিল্টার করা যায় - নিজ জেলা ও উপজেলা, শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠান, পেশা, ধর্মচর্চার মাত্রা, আর কাজ ও থাকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রত্যাশা। পেছনে মিলের কাজটি করে PremEngine। প্রোফাইল খোলা বিনামূল্যে, বেশি নাগাল চাইলে পেইড প্ল্যান আছে, আর আপনি না চাইলে ফোন নম্বর গোপন থাকে।
আরও পড়ুন
- নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি ম্যাট্রিমনি: কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কস
- মেলবোর্ন ও ভিক্টোরিয়ায় বাংলাদেশি ম্যাট্রিমনি
- খুলনার যাচাইকৃত পাত্র-পাত্রী: সিরিয়াস সম্বন্ধ খুঁজুন
**amarjibon.com-এ বিনামূল্যে প্রোফাইল খুলুন, অথবা অ্যাপটি নামিয়ে নিন Google Play বা App Store থেকে।** বিয়ে, সিরিয়াসভাবে।