বরিশালের যাচাইকৃত পাত্র-পাত্রী: সিরিয়াস সম্বন্ধ যেভাবে খুঁজবেন
বরিশালের বেশিরভাগ বিয়ে এখন ঠিক হয় দুই শহর মিলিয়ে - পরিবার দেশে, পাত্র বা পাত্রী ঢাকায়। দেশের বাড়ি আর দৈনন্দিন জীবন যখন চারশ কিলোমিটার দূরে, তখন কীভাবে খুঁজবেন তার পুরো গাইড।
বরিশালের কোনো পরিবারকে সম্বন্ধের কথা জিজ্ঞেস করলে দুই মিনিটের মধ্যেই আলাপ ঢাকায় চলে যায়। ছেলে মতিঝিলে চাকরি করে, বছরে দুবার বাড়ি আসে। মেয়ে ঢাকা থেকে অনার্স শেষ করে এখন মিরপুরের একটি স্কুলে পড়ায়। দুই পরিবারই নদীর এই পারে, বিয়েটাও হবে এখানেই - এমন একটি কমিউনিটি সেন্টারে, যার ম্যানেজারকে কারও এক চাচা চেনেন।
এই দুই শহরের জীবনটাই বরিশালে পাত্র-পাত্রী খোঁজার সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। পরিবার আছে বিভাগে, পাত্র বা পাত্রী প্রায়ই নেই। যিনি কেবল জেলার ভেতরে খোঁজেন তিনি অর্ধেক ছবি দেখেন, আর যিনি কেবল ঢাকায় খোঁজেন তিনি ঠিক সেই অর্ধেকটাই বাদ দিয়ে ফেলেন যেটা আসলে সিদ্ধান্ত নেয়।
৯১ লাখ মানুষের বিভাগ, যার এক পা ঢাকায়
২০২২ সালের আদমশুমারিতে বরিশাল বিভাগে ৯১ লাখ মানুষ গণনা করা হয়েছে - ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জনের দেশে আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। সংখ্যাগুলো বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর, যাদের ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস প্রতিবেদনই বিয়ে ও বিচ্ছেদের হারের প্রধান উৎস।
বরিশাল বরাবরই মানুষ পাঠিয়েছে বাইরে। নদী যাতায়াত সহজ করেছে, আর জমির টান সেটিকে জরুরি করেছে। দুই প্রজন্ম ধরে সদরঘাটের লঞ্চ এক দিকে নিয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের, অন্য দিকে ফিরিয়ে এনেছে টাকা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর সারারাতের পথ দিনের বাসযাত্রায় নেমে এসেছে, আর তাতে সম্বন্ধের ধরন দুই দিকেই বদলেছে। ঢাকার যেসব পরিবার একসময় শুধু দূরত্বের কারণে বরিশালের সম্বন্ধ চুপচাপ বাদ দিত, তারা এখন আর দেয় না। আর বরিশালের যেসব পরিবার ধরে নিত মেয়ে চিরদিনের জন্য চলে যাচ্ছে, তারা এখন ঘণ্টা হিসাব করে।
ছেলে ঢাকায় চাকরি করে - এই প্রস্তাবে কী কী দেখবেন
বরিশালের বেশিরভাগ প্রস্তাবের সঙ্গেই এখন একটি ঢাকার চাকরি জুড়ে থাকে। আর ঠিক এই জায়গাটিই আত্মীয়স্বজন সবচেয়ে কম যাচাই করতে পারেন, কারণ পাড়ার কেউ কখনো সেই অফিস দেখেননি। কেউ কথা দেওয়ার আগে এই উত্তরগুলো স্পষ্ট করে নিন:
- প্রতিষ্ঠানের পুরো নাম ও পদবি। কী ধরনের কোম্পানি নয় - নাম আর পদটি ঠিক কী।
- স্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক নাকি কমিশনের কাজ। এগুলো সম্পূর্ণ আলাদা জীবন, আর পার্থক্যটা বিয়ের প্রথম বছরেই ধরা পড়ে।
- ঢাকায় তিনি আসলে কোথায় থাকেন। ব্যাচেলর মেস, সাবলেট, কাজিনদের সঙ্গে ফ্ল্যাট, নাকি পরিবারের ফ্ল্যাট। সংসার কোথা থেকে শুরু হবে তা এটিই ঠিক করে।
- বিয়ের পর কোথায় থাকা হবে। প্রথম দিন থেকেই ঢাকায়, আপাতত বরিশালে, নাকি স্থায়ীভাবে বরিশালে। আয়ের চেয়ে এই ধারণার গরমিলেই বেশি সম্বন্ধ ভাঙে।
- দেশে বাবা-মায়ের খরচ কে চালাবেন। রেমিট্যান্স আর প্রবাসী আয়ের ওপর দাঁড়ানো একটি বিভাগে এটি বাস্তব বাজেটের অংশ, মুখে বলে নেওয়াই ভালো।
দুই পক্ষই যদি ঢাকায় থাকেন, তাহলে প্রশ্নগুলো আবার বদলে যায় - বাসাভাড়া, যাতায়াত, আর শহরের কোন দিকে সংসার পাতার আশা দুই পরিবার করছে। সেই অংশটি আছে ঢাকার যাচাইকৃত পাত্র-পাত্রী লেখায়।
যৌতুক অপরাধ, আর আমরা সেভাবেই দেখি
বরিশালের অনেক আলোচনায় যৌতুক কখনো নিজের নামে আসে না। সে আসে আসবাব হয়ে, মোটরসাইকেল হয়ে, ছেলের ভিসা বা ব্যবসার পুঁজিতে সাহায্য হয়ে, কিংবা এমন একটি তালিকা হয়ে যা কনের বাবার নাকি জোগাড় করারই কথা - কারণ বড় বোনের সময় তো তা-ই হয়েছিল।
যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী যৌতুক দেওয়া, নেওয়া ও দাবি করা - তিনটিই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। amarjibon যৌতুকবিরোধী একটি প্ল্যাটফর্ম। আর যে পরিবার এ ধরনের দাবি তোলে, তারা আপনাকে সেই সংসার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা জানিয়ে দিল যেখানে আপনার মেয়ে যাবেন। আইনে কী আছে আর দাবি উঠলে কী করবেন, তা আছে যৌতুক নিরোধ আইন সহজ ভাষায় লেখায়।
দেনমোহর আর যৌতুক পরস্পরের উল্টো। দেনমোহর বরের দায়, আর তা কেবল কনের নিজের। যৌতুক যায় উল্টো দিকে, আর সেটি আইনত অপরাধ।
দেশের বাড়ি বরিশাল, জীবন ঢাকায় - বায়োডাটা তখন কেমন হবে
দুই শহর মিলিয়ে খোঁজার বায়োডাটাকে এমন একটি কাজ করতে হয় যা কেবল স্থানীয় বায়োডাটার করতে হয় না। মুরুব্বিদের জন্য আপনাকে বরিশালে বসাতে হয়, আবার বাস্তব প্রশ্নগুলোর জন্য ঢাকায় - অথচ তিন পৃষ্ঠার রচনা হয়ে গেলে চলবে না।
- শুধু জেলা নয়, উপজেলার নাম লিখুন। বরিশাল সদর, গৌরনদী, বাকেরগঞ্জ, মেহেন্দিগঞ্জ, ভোলা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও বরগুনার পারিবারিক নেটওয়ার্ক আলাদা।
- এখন কোথায় থাকেন, কী করেন আর কত দিন পরপর বাড়ি আসেন - লিখে দিন।
- শিক্ষার সঙ্গে প্রতিষ্ঠান ও সাল দিন, কারণ বরিশালের পরিবারগুলো এটি ভালোভাবেই মিলিয়ে দেখে।
- পরিবারে কে কে আছেন লিখুন, বিশেষ করে কোন ভাই বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন।
- বিয়ের পর চাকরি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা এক লাইনে সৎভাবে লিখুন - আপনি যে পক্ষেই থাকুন।
প্রথমবার লিখলে বিয়ের বায়োডাটা তৈরির ধাপে ধাপে বাংলা আলোচনাটি দেখে নিতে পারেন, আর কী রাখবেন ও কী বাদ দেবেন তা ধরে ধরে বলা আছে আমাদের বিয়ের বায়োডাটা কীভাবে লিখবেন লেখায়।
দুই শহরের মাঝে দেখাসাক্ষাৎ, ঝুঁকি ছাড়া
দুই পক্ষ দুই শহরে থাকলে প্রথম দেখাটা সাধারণত কারও ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে তাড়াহুড়ো করে ঠিক হয়। প্রতারকরা ঠিক এই তাড়াহুড়োটাকেই কাজে লাগায়। কয়েকটি নিয়ম মানলে ব্যাপারটা নিরাপদ হয়, অথচ শীতল হয়ে যায় না:
- দিনের আলোয়, প্রকাশ্য জায়গায় দেখা করুন, দুই পরিবারের একজন করে সঙ্গে থাকুন।
- চাকরির খোঁজ দেখা করার পরে নয়, আগেই স্বাধীনভাবে নিয়ে নিন।
- দেখা হয়নি এমন কাউকে কোনো অজুহাতেই - জরুরি অবস্থা বললেও - টাকা, স্বর্ণ বা কাগজপত্র পাঠাবেন না।
- এনআইডি, পাসপোর্ট ও ব্যাংকের তথ্য চ্যাটে দেবেন না, আর প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত ফোন নম্বর গোপন রাখুন।
পরিচিত প্রতারণার ধরনগুলো বলা আছে বাংলাদেশে ম্যাট্রিমনি প্রতারণা লেখায়, আর স্থানীয় খোঁজের তুলনায় দূরের খোঁজে এগুলো বেশি ঘটে।
বিচ্ছেদ ও পুনর্বিবাহ আর চাপা বিষয় নয়
পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য উল্লেখ করে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, ২০২২ সালে দেশে বিচ্ছেদের হার ছিল প্রতি হাজারে ১.৪, যা আগের বছরের ০.৭ এর দ্বিগুণ। বরিশালের পরিবারগুলোও এটি টের পায়, বেশিরভাগ সময় নীরবেই।
তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা কোনো পাত্র-পাত্রী কম যোগ্য নন, আর বিষয়টিকে অনুগ্রহ হিসেবে দেখা যেমন নির্দয়, তেমনি বাস্তবে সেটি দ্বিতীয় একটি অসুখী বিয়ে সাজানোরই ভালো উপায়। বায়োডাটায় একবার স্পষ্ট করে লিখে দিন, আর বাকি সবার মতো একই মানদণ্ডে খুঁজুন।
বরিশালের পরিবারগুলো আসলে কী দেখে
- উপজেলায় পরিবারের সুনাম। কারা এই পরিবারকে চেনেন, আর সরাসরি জিজ্ঞেস করলে তাঁরা কী বলেন।
- যাচাই করা আয়, শোনা আয় নয়। যে ঢাকার বেতন কেউ মিলিয়ে দেখেননি, সেটি নিছক গুজব।
- ধর্মচর্চার মাত্রা, যা শুনতে ভালো লাগে সেভাবে নয়, যা সত্যি সেভাবে।
- দেশে জমি ও ঘরের ব্যবস্থা, কারণ বিয়ের পর কে কোথায় থাকবেন তা অনেকটা এখান থেকেই ঠিক হয়।
- যাতায়াতে আগ্রহ। আকদের আগে যে সম্বন্ধে তিনবার বরিশাল যেতে হবে, সেখানে সেই যাতায়াত করার মতো মানুষ দরকার।
এখানে amarjibon কোথায়
amarjibon দেশে ও প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য তৈরি একটি ম্যাট্রিমনি প্ল্যাটফর্ম, ডেটিং অ্যাপ নয়। প্রতিটি প্রোফাইল এনআইডি ও লাইভনেস সেলফি দিয়ে যাচাই করা, ফলে ঢাকায় থাকা কোনো পাত্রকে যাচাই করতে বসা বরিশালের পরিবার একটি ছবি আর একটি ফোন নম্বর নয়, একজন সত্যিকারের যাচাইকৃত মানুষ দিয়েই শুরু করেন। প্ল্যাটফর্মটি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই, আর প্রথম আলাপ থেকেই পরিবার যুক্ত থাকতে পারে।
বরিশালের সম্বন্ধে যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ, সেসব ধরেই ফিল্টার করা যায় - নিজ জেলা ও উপজেলা, বর্তমান শহর, শিক্ষা, পেশা, ধর্মচর্চার মাত্রা, আর কাজ ও থাকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রত্যাশা। পেছনে মিলের কাজটি চুপচাপ করে PremEngine। প্রোফাইল খোলা বিনামূল্যে, বেশি নাগাল চাইলে পেইড প্ল্যানও আছে, আর আপনি না চাইলে ফোন নম্বর গোপন থাকে।
আরও পড়ুন
- সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকার উপকণ্ঠে যাচাইকৃত পাত্র-পাত্রী
- নোয়াখালীর যাচাইকৃত পাত্র-পাত্রী - সিরিয়াস সম্বন্ধ খুঁজুন
- রাজশাহীর যাচাইকৃত পাত্র-পাত্রী: সিরিয়াস সম্বন্ধ খুঁজুন
**amarjibon.com-এ বিনামূল্যে প্রোফাইল খুলুন, অথবা অ্যাপটি নামিয়ে নিন Google Play বা App Store থেকে।** বিয়ে, সিরিয়াসভাবে।