দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি ম্যাট্রিমনি
দুবাইয়ে দুটি বাংলাদেশি সমাজ — পরিবার ভিসাধারী পেশাজীবীদের একটি, আর দেশে বিয়ে করা শ্রমজীবীদের আরেকটি। এই লেখা দুটোকেই সৎভাবে ধরে, উপসাগরীয় বেতনের আসল মানে সহ।
দুবাইয়ে দুটি বাংলাদেশি সমাজ — পরিবার ভিসাধারী পেশাজীবীদের একটি, আর দেশে বিয়ে করা শ্রমজীবীদের আরেকটি। এই লেখা দুটোকেই সৎভাবে ধরে, উপসাগরীয় বেতনের আসল মানে সহ।

শুক্রবার সন্ধ্যায় দেইরায় প্রায় একই সময়ে দুটি ফোন যাচ্ছে বাংলাদেশে। একটি নাইফ রোডের পাশের একটি শেয়ার করা কামরা থেকে, যেখানে বিশের শেষ ভাগের এক তরুণ মাকে বলছেন — হ্যাঁ, ছবি দেখেছি; না, ডিসেম্বরের আগে দেশে আসা যাবে না। অন্যটি আল বারশার একটি ফ্ল্যাট থেকে, যেখানে লজিস্টিকসে কাজ করা ত্রিশ বছরের এক নারী বাবাকে ধৈর্য ধরে তৃতীয়বারের মতো বোঝাচ্ছেন, কেন যাঁর সঙ্গে কখনো কথাই হয়নি তাঁকে তিনি হ্যাঁ বলবেন না।
এই দুটি ফোনকলই দুবাইয়ে বাংলাদেশি ম্যাট্রিমনি। একই শহর, অথচ প্রায় সম্পূর্ণ আলাদা দুই জগৎ — আর আমিরাতে বিয়ে নিয়ে যেকোনো সৎ আলোচনায় দুটোকেই ধরতে হবে।
বাংলাদেশের বাইরে সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীগুলোর একটি আমিরাতে — সাধারণভাবে অনুমান করা হয় প্রায় সাত লাখ, উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের পরেই। উপসাগরের বাকি দেশগুলো থেকে এখানকার পার্থক্য হলো, এই জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য একটি অংশ সাদা-কলার পেশায় ও পরিবার নিয়ে থিতু: প্রকৌশলী, হিসাববিদ, আইটি পেশাজীবী, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক, লজিস্টিকস ও আতিথেয়তা খাতের ব্যবস্থাপক — দুবাই ও আবুধাবিতে এমন রেসিডেন্স ভিসায়, যাতে স্ত্রীকে স্পন্সর করা যায়।
এই দুই দল একই মসজিদে নামাজ পড়ে, একই বাজারে কেনাকাটা করে — কিন্তু তারা এক বিয়ের বাজার নয়। আপনি কোনটিতে আছেন, সেটি জানলেই খোঁজার ধরনটা বদলে যায়।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বিদেশে কর্মসংস্থান নিয়ে প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গেছেন ১১.২৫ লাখ কর্মী, যা আগের বছরের চেয়ে ১১.২৭ শতাংশ বেশি। এর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি গেছেন সৌদি আরবে। একই প্রতিবেদনে আছে, এঁদের মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র ৬১,৯৯৭ জন, প্রায় ৫.৫ শতাংশ — উপসাগরীয় সমাজগুলোতে পুরুষের আধিক্য আর আমিরাতের বেশিরভাগ বাংলাদেশি পুরুষের দেশে থাকা কাউকে বিয়ে করার সবচেয়ে বড় কারণ এটিই।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমিরাতের ভিসা প্রক্রিয়া অসম ছিল। ২০২৫ সালে দ্য ডেইলি স্টার লিখেছে বাংলাদেশিদের জন্য আমিরাতের ভিসা ইস্যু ধাপে ধাপে আবার গতি পাওয়ার কথা, দক্ষ কর্মীদের এমপ্লয়মেন্ট ভিসার অনলাইন ব্যবস্থা আবার চালু হওয়াসহ। আপনার বিয়ের পরিকল্পনা যদি কারও আমিরাতের ভিসা পাওয়ার ওপর নির্ভর করে, তাহলে বিষয়টিকে চলমান ও পরিবর্তনশীল ধরে নিন এবং কথা দেওয়ার আগে বর্তমান অবস্থা যাচাই করুন।
দম্পতি আমিরাতে একসঙ্গে থাকবেন নাকি আলাদা — এই বাস্তব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে একটি বিষয়ে: সেখানকার বাসিন্দা স্ত্রীকে স্পন্সর করতে পারবেন কি না। এটি নির্ভর করে বেতন, পেশার শ্রেণি, থাকার ব্যবস্থা আর প্রচলিত অভিবাসন নিয়মের ওপর — যার সবই বদলায়।
কিছু ঠিক হওয়ার আগেই দুই পরিবারকে এটি স্পষ্ট করে বলা দরকার। স্বামী দুবাইয়ে কাজ করবেন আর স্ত্রী বাংলাদেশে থাকবেন — এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বাংলাদেশি ব্যবস্থা, আর অনেক পরিবারে তা চলেও। কিন্তু এটি হওয়া উচিত একটি সিদ্ধান্ত, নিকাহর তিন মাস পর হঠাৎ আবিষ্কার নয়। ২০১৯ সালে কোনো সহকর্মী কী করতে পেরেছিলেন তার ওপর ভরসা না করে আমিরাতের সরকারি সূত্র বা নিয়োগকর্তার পিআরওর কাছ থেকে বর্তমান শর্ত জেনে নিন।
বাংলাদেশে একটি ধারণা টিকে আছে — প্রবাসী পাত্র মানেই ধনী পাত্র। উপসাগরের ক্ষেত্রে এটি প্রায়ই ভুল, আর এই ভুল সত্যিকারের ক্ষতি করে।
অনেক কর্মী আসেন দালাল-ঋণ মাথায় নিয়ে, যা শোধ হতে দুই-তিন বছর লাগে। থাকা, খাওয়া আর বছরের টিকিটের খরচ ওই বড় দেখানো মাসিক অঙ্ক থেকেই যায়। রেমিট্যান্সে চলে বাবা-মা, ভাইবোন, প্রায়ই বোনের পড়াশোনা। মাসে ৬০,০০০ টাকা দেশে পাঠানো একজন মানুষ নিজে হয়তো খুব সামান্যতেই চলেন। দুবাই শব্দটা শুনে কনেপক্ষ যখন প্রত্যাশা বাড়িয়ে ফেলে, তারা মেয়েকে রক্ষা করে না — তারা মেয়ের সংসারটাই শুরু করিয়ে দেয় ঋণ দিয়ে।
এর সঠিক জবাব সন্দেহ নয়, যাচাই। শান্তভাবে ও শুরুতেই আয় ও চাকরির নথি চান। কী চাওয়া যুক্তিসঙ্গত আর তা কীভাবে পড়বেন, তা আছে যাচাইকৃত আয়সহ প্রবাসী পাত্র খোঁজা লেখায়।
ঠিক ওই ধারণাটির কারণেই উপসাগরীয় বিয়েতে যৌতুকের চাপ অন্য অনেক জায়গার চেয়ে বেশি। এ নিয়ে সরাসরি কথা বলা দরকার। দেনমোহর বর কর্তৃক কনেকে দেওয়া বাধ্যতামূলক অর্থ, আর তা কেবল কনেরই। যৌতুক যায় উল্টো দিকে — কনের পরিবার থেকে বরের পরিবারে — আর তা দাবি করা, দেওয়া বা নেওয়া বাংলাদেশে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
amarjibon কোনো রূপেই যৌতুকের প্রত্যাশাকে জায়গা দেয় না। কোনো প্রস্তাবের সঙ্গে যদি তালিকা আসে — আসবাব, মোহরের বাইরে স্বর্ণ, মোটরসাইকেল, ভিসার টাকা — তাহলে সেটি প্রস্তাব নয়, আর সেখানেই আলাপ শেষ করে দিতে কোনো পরিবারের সংকোচ থাকা উচিত নয়। পার্থক্যটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা আছে দেনমোহর যৌতুক নয় লেখায়।
আমিরাত-সংশ্লিষ্ট বেশিরভাগ বাংলাদেশি দম্পতির বিয়ে হয় ছুটিতে দেশে গিয়ে, কাগজপত্র হয় পরে। দুটি ভুল এত ঘন ঘন হয় যে আলাদা করে বলা দরকার।
নিকাহ যদি দেশে না হয়ে বিদেশে হয়, শর্তগুলো আবার আলাদা — কী বদলায় তা আছে প্রবাসীদের বিদেশে নিকাহ লেখায়।
প্রবাসীর খোঁজ প্রায় পুরোটাই দূর থেকে। ছবি বিনিময় হয়, কোনো চাচা কারও হয়ে বলেন, জেলার কোনো ঘটক যুক্ত হন — আর কখনো কখনো সিদ্ধান্ত হয়ে যায় পাত্র-পাত্রীর ভালোভাবে একবার কথা বলার আগেই।
দুটি নিয়ম এটিকে অনেক নিরাপদ করে। এক, কিছু ঠিক হওয়ার আগে পাত্র-পাত্রীর মধ্যে সরাসরি ভিডিও কল হোক — আপনার পরিবার চাইলে অভিভাবকদের উপস্থিতিতেই। দুই, যাঁকে দেখেননি তাঁকে কখনো টাকা পাঠাবেন না — ভিসার জন্য নয়, মেডিকেল টেস্টের জন্য নয়, ঘটকের ফি হিসেবেও নয়। প্রচলিত ফাঁদগুলো ধরে ধরে বলা আছে বাংলাদেশে ম্যাট্রিমনি প্রতারণা লেখায়।
amarjibon দেশে ও প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের জন্যই তৈরি একটি ম্যাট্রিমনি প্ল্যাটফর্ম — প্রবাসীর খোঁজে ঠিক এই পরিস্থিতিটিই তৈরি হয়। প্রতিটি প্রোফাইল এনআইডি ও লাইভনেস সেলফি দিয়ে যাচাই করা, তাই শারজায় থাকা কোনো পাত্র নিয়ে ভাবা কুমিল্লার পরিবারকে কেবল একটি ছবি আর কাজিনের কথার ওপর ভরসা করতে হয় না। প্ল্যাটফর্মটি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই, আর প্রথম আলাপ থেকেই পরিবার যুক্ত থাকতে পারে।
উপসাগরীয় সম্বন্ধে যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ, সেসব ধরেই ফিল্টার করা যায় — বসবাসের দেশ ও শহর, পরিবার ভিসা সম্ভব কি না, পেশা ও আয়ের স্তর, ধর্মচর্চার মাত্রা, শিক্ষা আর নিজ জেলা। পেছনে মিলের কাজটি করে PremEngine। প্রোফাইল খোলা বিনামূল্যে, আর আপনি না চাইলে আপনার ফোন নম্বর গোপন থাকে।
**amarjibon.com-এ বিনামূল্যে প্রোফাইল খুলুন, অথবা অ্যাপটি নামিয়ে নিন Google Play বা App Store থেকে।** বিয়ে, সিরিয়াসভাবে।
কথা চলছে, পরিবারও জড়িয়েছে। এরপর কী? দেখা করার সময় →
এই বিষয়ে পাঠকেরা যা সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করেন।
এটি নির্ভর করে বেতন, পেশার শ্রেণি, থাকার ব্যবস্থা আর আমিরাতের বর্তমান স্পন্সরশিপ নিয়মের ওপর, যা বদলায়। পেশাজীবী বাসিন্দাদের অনেকেই পারেন; নিয়োগকর্তার দেওয়া থাকার ব্যবস্থায় থাকা বেশিরভাগ শ্রমজীবী পারেন না। কনেপক্ষকে কথা দেওয়ার আগে আমিরাতের সরকারি সূত্র বা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে বর্তমান শর্ত জেনে নিন।
শুরুতেই শান্তভাবে চাকরি ও আয়ের নথি চান, কিছু ঠিক হওয়ার আগে সরাসরি ভিডিও কল করুন, আর তিনি যা বলছেন তা সময়ের সঙ্গে মিলছে কি না দেখুন। যাচাইকৃত প্ল্যাটফর্মে পরিচয় এনআইডি ও লাইভনেস সেলফি দিয়ে নিশ্চিত করা হয়, ফলে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটি থাকে না। যাঁকে দেখেননি তাঁকে কখনো টাকা পাঠাবেন না।
হ্যাঁ, আর তাতে দুই পক্ষেরই লাভ। বাংলাদেশে বিদেশের বেতন নিয়ে অনুমান প্রায়ই বাড়িয়ে ধরা হয়, আর বাড়তি অনুমান থেকেই আসে বাড়তি দাবি। নথি চাওয়া অপমান নয়; এটি দুই পক্ষকেই অবাস্তব প্রত্যাশা বা ঋণ দিয়ে সংসার শুরু করা থেকে বাঁচায়।
না। amarjibon বিয়ের উদ্দেশ্যে তৈরি একটি ম্যাট্রিমনি প্ল্যাটফর্ম। প্রোফাইল এনআইডি ও লাইভনেস সেলফি দিয়ে যাচাই করা, প্রথম থেকেই পরিবার যুক্ত থাকতে পারে, প্ল্যাটফর্মটি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই, আপনি না দিলে ফোন নম্বর গোপন থাকে, আর প্রোফাইল খোলা বিনামূল্যে।

কানাডার সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি সমাজ টরন্টোতে, আর এর বেশিরভাগই এসেছেন গত কুড়ি বছরে। এই দুটি বিষয় মিলেই ঠিক করে দিচ্ছে এখানে বিয়ের ব্যাপারটা এখন কীভাবে চলে।

মালয়েশিয়ায় আট লাখেরও বেশি বাংলাদেশির ওয়ার্ক পারমিট, সিঙ্গাপুরে আরও প্রায় দেড় লাখ। প্রায় সবাই পুরুষ, আর পারমিটে পরিবার নেওয়ার সুযোগ নেই — তাই বিয়ের খোঁজটা চলে দেশ থেকেই। কাজটা গুছিয়ে করার উপায়।

জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী ছোট, তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত — আর সেখানে বাংলাদেশি নারী প্রায় নেই বললেই চলে। এই ঘাটতি আর ভিসার নিয়মই ঠিক করে দেয় এখানকার বিয়েগুলো বাস্তবে কীভাবে হয়।
যাচাই করা প্রোফাইল, অভিভাবক স্বাগত, আর আপনি না বলা পর্যন্ত কিছুই শেয়ার হয় না। দেখতে কোনো খরচ নেই।
ফ্রি প্রোফাইল বানান