কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনে বাংলাদেশি ম্যাট্রিমনি
কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইনে প্রায় ১৬ লাখ বাংলাদেশি থাকেন, যাঁদের বেশিরভাগই পরিবার ছাড়া ভিসায় থাকা পুরুষ। দুই সময় অঞ্চল মিলিয়ে পরিবার ও প্রবাসী কীভাবে একসঙ্গে পাত্রী দেখবেন, আর ৩০ দিনের ছুটিতে নিকাহ কীভাবে গুছিয়ে নেবেন।
দোহার ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ায় কাজ করা এক সুপারভাইজারের সপ্তাহে একটাই ফাঁকা সন্ধ্যা, আর তার প্রায় পুরোটাই কাটে ফোনে। গত শুক্রবার ফেনী থেকে তাঁর খালা তিনটি বায়োডাটা পাঠিয়েছেন। দুটির সঙ্গে মেয়ের ছবি নেই, আছে বিয়ের স্টেজের ছবি; তৃতীয়টিতে জেলার ঘরটাই ফাঁকা। তিনি উত্তর দিয়েছেন দোহার সময় রাত সাড়ে বারোটায়, ফেনীতে তখন ভোর সাড়ে তিনটা — ফলে সেটি কেউ পড়েছেন পরদিন।
এই দেরিটাই — ঘড়ির কয়েক ঘণ্টার ব্যবধান আর দুই সপ্তাহ ধরে ফরোয়ার্ড হওয়া বার্তা — কাতারসহ উপসাগরীয় দেশে বাংলাদেশি ম্যাট্রিমনিকে দরকারের চেয়ে কঠিন করে তোলে। আসল সমস্যা দূরত্ব নয়। সমস্যা হলো, দুই পক্ষের জন্য একটাই গোছানো খোঁজ কোথাও নেই।
চার দেশ, প্রায় ১৬ লাখ মানুষ
সৌদি আরবের পর ছোট উপসাগরীয় দেশগুলোতেই বিশ্বের অন্যতম বড় বাংলাদেশি জমায়েত। দূতাবাস ও কমিউনিটির প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী:
- ওমান — প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার; মাস্কাট, সোহার, সালালাহ ও ভেতরের অঞ্চলজুড়ে।
- কাতার — প্রায় ৪ লাখ; দোহা, আল ওয়াকরা, আল খোর ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ায় ঘনবসতি।
- কুয়েত — প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার; কুয়েত সিটি, জাহরা, ফারওয়ানিয়া ও আহমাদিতে।
- বাহরাইন — প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার; মূলত মানামা, মুহাররাক ও রিফায়।
স্রোত থামেনি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গেছেন ১১ লাখ ২৫ হাজার কর্মী, যা ১১.২৭ শতাংশ বেশি, আর এর বিপুল অংশই গেছে উপসাগরীয় দেশে। তাঁদের মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র ৬১,৯৯৭ জন, প্রায় ৫.৫ শতাংশ।
কাতারে বাংলাদেশি ম্যাট্রিমনি কেন দোহায় নয়, দেশ থেকেই শুরু হয়
শেষ সংখ্যাটিই পুরো ছবিটা বুঝিয়ে দেয়। এই জনগোষ্ঠীগুলো গড়ে উঠেছে পরিবার ছাড়া কাজের ভিসার ওপর, আর তাতে পুরুষই বেশি। চার দেশেই পরিবার নেওয়ার সুযোগ আছে, তবে তা পেশা ও ন্যূনতম বেতনের সঙ্গে বাঁধা, আর বেশিরভাগ কর্মী সেই শর্ত পূরণ করেন না।
তাই খোঁজ চলে বাংলাদেশে, এমন একজনের হয়ে যিনি ঘরে নেই, আর বিয়েটা ঢুকিয়ে দিতে হয় মাস কয়েক আগে অনুমোদন হওয়া ছুটির ভেতরে। পাশের বড় জনগোষ্ঠীতেও ছবিটা একই, যা আছে সৌদি আরবে বাংলাদেশি ম্যাট্রিমনি লেখায়।
দুই-তিন ঘণ্টার ব্যবধান সামলাবেন যেভাবে
কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন বাংলাদেশের চেয়ে তিন ঘণ্টা পিছিয়ে, ওমান দুই ঘণ্টা। কাগজে ব্যবধানটা ছোট, বাস্তবে বড় — কারণ দুই পক্ষের ফাঁকা সময় সাধারণত মেলে না।
- ভরসার সময় উপসাগরীয় ঘড়িতে রাত ৯টা থেকে ১১টা, দেশে তখন রাত ১২টা থেকে ২টা। মাঝেমধ্যে চলে, প্রতি সপ্তাহে নয়।
- শুক্রবার সকাল অনেক ভালো। দেশে তখন দুপুরের পর, ঘরের সবাই জেগে ও একসঙ্গে থাকেন।
- পরিবারে পরিবারে কথা বলার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন আর সেটাই ধরে রাখুন। এলোমেলো কলেই তিন সপ্তাহ হারিয়ে যায়।
- কোন কলে কারা থাকবেন, আগেই ঠিক করে নিন। এগারোজন আত্মীয় শুনছেন এমন কল দুজন সম্ভাব্য পাত্র-পাত্রীর আলাপ নয়।
৩০ দিনের ছুটিতে নিকাহ গুছিয়ে নেওয়া
উপসাগরীয় চুক্তিতে সাধারণত একবারেই ছুটি মেলে, প্রায়ই ৩০ দিন, বছরে বা দুই বছরে একবার। সবকিছু সেই সময়ের ভেতরেই সারতে হয়, তাই বাছাইয়ের কাজ ফ্লাইটের আগেই শেষ হওয়া চাই।
- ফ্লাইটের আগে। প্রোফাইল যাচাই, পরিবারের সঙ্গে কথা, অন্তত দুবার ভিডিওতে আলাপ, আর এক-দুটি বাড়িতে যাওয়ার দিন ঠিক করা।
- প্রথম সপ্তাহ। পরিবারসহ সামনাসামনি দেখা। সময় কম বলে এটিকে এক বিকেলে ঠেসে দেবেন না।
- দ্বিতীয় সপ্তাহ। দেনমোহর ও উশুল-বাকির ভাগ ঠিক করা, কে কোন খরচ দেবে তা ঠিক করা, কাজী বুকিং। তাড়াহুড়ো করে টাকার আলোচনা সারলেই পরে ঝামেলা বাধে।
- তৃতীয় সপ্তাহ। আকদ ও নিবন্ধন, এরপর ওয়ালিমা। সই করার আগে কাবিননামা নিজে পড়ুন।
- চতুর্থ সপ্তাহ। সত্যায়িত কপি সংগ্রহ, ফ্যামিলি ভিসার সামান্য সম্ভাবনা থাকলেও অনুবাদ ও অ্যাটেস্টেশন করিয়ে রাখা, আর সামনের এক বছরের পরিকল্পনা ঠিক করা।
নিবন্ধন হয় মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী, আর পরে সব দপ্তরই কাবিননামা চাইবে। বিদেশে লাগতে পারে মনে হলে ধাপগুলো দেখানো আছে কাবিননামার মন্ত্রণালয় সত্যায়ন নিয়ে এই আলোচনায়। নিয়ম বদলায়, তাই ২০২২ সালে বন্ধু যা করেছিলেন তা না ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বর্তমান প্রক্রিয়া জেনে নিন। পুরো ধাপ ধরে ধরে বলা আছে বাংলাদেশে বিয়ে নিবন্ধন লেখায়।
কথা পাকা করার আগে দুই পক্ষের যা জানা দরকার
কনেপক্ষের জানা দরকার পাত্রের পেশা ও চুক্তিতে ঠিক কী লেখা, থাকা-খাওয়া বাদ দিয়ে হাতে কত থাকে, বিদেশ যাওয়ার ঋণ এখনো শোধ হচ্ছে কি না, পরের ছুটি কবে অনুমোদিত, পরিবার নেওয়ার সুযোগ বাস্তবসম্মত কি না, আর ততদিন কনে কোথায় থাকবেন।
পাত্রকেও সমান স্পষ্ট হতে হবে। যা আয় করেন তা-ই বলুন, আত্মীয়রা যা বলে বেড়ান তা নয়। কত দিন দূরে থাকবেন বলুন। স্ত্রী শ্বশুরবাড়িতে থাকবেন কি না বলুন। নিকাহর আগের হতাশা সামলে নেওয়া যায়, পরেরটা যায় না। দুই পক্ষের জন্যই প্রশ্নের বড় তালিকা আছে পাত্র দেখতে গিয়ে যা জিজ্ঞেস করবেন লেখায়।
টাকা, আর উপসাগরীয় বেতনের সঙ্গে আসা চাপ
রিয়াল বা দিনারের আয় বসার ঘরে টাকায় রূপান্তর করলে বিশাল শোনায়। কিন্তু শেয়ার করা থাকার জায়গা, খাওয়া, যাতায়াত, ফোনের খরচ, বাবা-মায়ের জন্য পাঠানো টাকা আর ভিসার ঋণ বাদ দিলে সেই বিশালত্ব আর থাকে না।
এ থেকে দুটি কথা আসে। দেনমোহর এমন হওয়া চাই যা বর সত্যিই পরিশোধ করতে পারবেন — ছেলে বিদেশে থাকে বলে বাড়িয়ে ধরা অঙ্ক নয়। আর উল্টো দিক থেকে কারও কাছে কিছু চাওয়া চলবে না।
যৌতুক চাওয়া, দেওয়া বা নেওয়া যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। উপহার, আসবাব বা বিয়ের খরচে সাহায্য — যে নামেই ডাকুন, বিষয়টি বদলায় না।
বিয়ের পর: দূরত্বের প্রথম বছর
এই পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ দম্পতির প্রথম বছরটা কাটে আলাদা থেকে, আর এই বছরটাই ঠিক করে দেয় বাকিটা কেমন যাবে। যাঁরা ভালোভাবে সামলান, তাঁরা নিরস বিষয়গুলো আগেই ঠিক করে নেন: কত দিন পরপর কথা হবে, টাকা কে সামলাবে ও কোন সিদ্ধান্ত কার, বাবার বাড়িতে কত সময় থাকা হবে, আর কয়েক বছরেও পরিবার নেওয়া সম্ভব না হলে পরিকল্পনা কী।
এসব নিকাহর আগেই মুখ ফুটে বলুন, চার মাসের নীরবতার পরে নয়। দুই দেশে ভাগ হয়ে থাকা সংসারের বাস্তব দিকগুলো আছে প্রবাসী ম্যাট্রিমনি লেখায়।
এখানে amarjibon কোথায়
amarjibon দেশে ও প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য তৈরি ম্যাট্রিমনি প্ল্যাটফর্ম। প্রতিটি প্রোফাইল এনআইডি ও লাইভনেস সেলফি দিয়ে যাচাই করা — আর এটির দরকার সবচেয়ে বেশি তখনই, যখন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন দোহায় থাকা একজন আর বাড়ি দেখতে যাচ্ছেন চট্টগ্রামের কেউ। দুজনেই তখন একই যাচাইকৃত প্রোফাইল দেখছেন, চার ফোন ঘুরে আসা ছবি নয়।
জেলা ও উপজেলা, ধর্মচর্চার মাত্রা, শিক্ষা, কাজ ও থাকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রত্যাশা — সবই ধরে ফিল্টার করা যায়, আর পাত্র উপসাগরীয় দেশে আছেন সেটিও স্পষ্ট লেখা যায়। প্ল্যাটফর্মটি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই, প্রথম আলাপ থেকেই পরিবার যুক্ত থাকতে পারে, আর আপনি না চাইলে ফোন নম্বর গোপন থাকে।
আরও পড়ুন
- বাংলাদেশে খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ বিয়ে: অনুষ্ঠান ও নিবন্ধন
- ময়মনসিংহের যাচাইকৃত পাত্র-পাত্রী: সিরিয়াস সম্বন্ধ যেভাবে খুঁজবেন
- Amarjibon কি ফ্রি? মূল্য ও কীভাবে কাজ করে
**amarjibon.com-এ বিনামূল্যে প্রোফাইল খুলুন, অথবা অ্যাপটি নামিয়ে নিন Google Play বা App Store থেকে।** বিয়ে, সিরিয়াসভাবে।