বাংলাদেশে বিবাহ নিবন্ধন: কাগজপত্র, ফি ও ধাপ (২০২৬)
কে আপনার বিয়ে নিবন্ধন করতে পারেন, কী কী কাগজ লাগবে, দেনমোহরের সঙ্গে যুক্ত সরকারি ফি কত, দেরিতে নিবন্ধন কীভাবে হয়, আর কোর্ট ম্যারেজের হলফনামা কেন নিবন্ধন নয়।
কে আপনার বিয়ে নিবন্ধন করতে পারেন, কী কী কাগজ লাগবে, দেনমোহরের সঙ্গে যুক্ত সরকারি ফি কত, দেরিতে নিবন্ধন কীভাবে হয়, আর কোর্ট ম্যারেজের হলফনামা কেন নিবন্ধন নয়।

মিরপুরের এক দম্পতি মেয়ের পাসপোর্টের আবেদন করতে গিয়ে শুনলেন, বিয়ের সনদ লাগবে। চারশ অতিথি নিয়ে বিয়ে হয়েছিল, কাজী ছিলেন, দুজন সাক্ষী ছিলেন, পুরো অনুষ্ঠানের ভিডিওও আছে। যেটি ছিল না, তা হলো নিবন্ধিত বিবাহ। সেদিনের কাজীর ওই এলাকার লাইসেন্স ছিল না, আর কোনো রেজিস্টারেই কোনো এন্ট্রি হয়নি।
এই ঘটনা পরিবারগুলোর ধারণার চেয়ে অনেক বেশি ঘটে, আর বছর কয়েক পরে ঠিক করতে গেলে খরচও অনেক। বাংলাদেশে বিবাহ নিবন্ধন আসলে ছোট একটি দাপ্তরিক প্রক্রিয়া, যার ফিও নির্দিষ্ট এবং তুলনামূলকভাবে কম। পুরোটা নিচে।
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিটি মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। নিবন্ধন না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ — সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত সাধারণ কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ড। দায়িত্বটি রেজিস্ট্রারের ওপর বর্তায়, কিন্তু অনিবন্ধিত বিয়ের ফল প্রায় পুরোটাই ভোগ করেন স্ত্রী।
ইজাব, কবুল ও সাক্ষীসহ সঠিকভাবে সম্পন্ন নিকাহ ধর্মীয়ভাবে বৈধ, নিবন্ধন হোক বা না হোক। কিন্তু প্রশ্নটি সেটি নয় — প্রশ্নটি প্রমাণের। কাবিননামা না থাকলে পারিবারিক আদালত, দূতাবাস, ব্যাংক বা পাসপোর্ট অফিসে দেখানোর মতো কিছুই থাকে না, আর বিয়েটি আদৌ হয়েছিল কি না তা প্রমাণের দায় গিয়ে পড়ে সেই মানুষটির ওপর, যাঁর ক্ষমতা সবচেয়ে কম।
সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার ছাড়া কেউ মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন করতে পারেন না, আর প্রতিটি লাইসেন্স একটি নির্দিষ্ট এলাকার জন্য — একটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড বা পৌরসভা। নিজের লাইসেন্স এলাকার বাইরে অনুষ্ঠিত বিয়ে কোনো রেজিস্ট্রার আইনসম্মতভাবে নিবন্ধন করতে পারেন না, আর ঠিক এভাবেই অনেক পরিবারের অনুষ্ঠান কখনো এন্ট্রিতে পরিণত হয় না।
হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ বিবাহ নিবন্ধিত হয় সম্পূর্ণ আলাদা আইনে। হিন্দু দম্পতিদের জন্য দেখুন বাংলাদেশে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন।
এই অংশটিই পরিবারগুলোর সবচেয়ে বেশি টাকা আর তর্ক বাঁচায়, কারণ খুব কম মানুষই জানেন যে ফি দরকষাকষির বিষয় নয়, বিধি দিয়ে নির্ধারিত। হিসাবটি হয় দেনমোহরের অঙ্কের ওপর।
অর্থাৎ ৩ লাখ টাকা মোহর হলে নিবন্ধন ফি দাঁড়ায় প্রায় ৩,৭৫০ টাকা। ৬ লাখ টাকা মোহর হলে প্রায় ৫,২০০ টাকা — প্রথম চার লাখের জন্য ৫,০০০, আর তার ওপরের দুই লাখের জন্য ২০০। রেজিস্ট্রারকে অনুষ্ঠানস্থলে যেতে হলে যুক্তিসংগত ভ্রমণ খরচ আলাদা, আর নকলের জন্যও ছোট একটি ফি আছে। এর বাইরে যা কিছু, তা আইন নয় — দরকষাকষি। কাজী কী চাইতে পারেন আর কী পারেন না, তা দেখানো আছে নিবন্ধন ফি নিয়ে এই আলোচনায়। প্রতিবার রসিদ চেয়ে নিন।
যে অঙ্ক চাওয়া হচ্ছে তা যদি ওপরের হারের সঙ্গে না মেলে, শান্তভাবে সেটি বলুন এবং ফি রসিদে লিখে দিতে বলুন। অতিরিক্ত টাকা নেওয়া টিকে থাকে কেবল এই কারণে যে পরিবারগুলো জিজ্ঞেস করতে সংকোচ করে।
যে বিয়ে কখনো নিবন্ধিত হয়নি, তা সাধারণত পরেও নিবন্ধন করা যায় — সাক্ষী, প্রমাণ ও মূল অনুষ্ঠানের বিবরণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করে। যত দেরি হয় ততই কঠিন হয়, বিশেষ করে সাক্ষীরা এলাকা ছেড়ে গেলে বা মারা গেলে। দেরিতে নিবন্ধনের পথটি এখানে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা আছে।
বড় ভুল ধারণাটি কোর্ট ম্যারেজ নিয়ে। বাংলাদেশে যাকে কোর্ট ম্যারেজ বলা হয় তা আসলে নোটারি পাবলিক বা হলফনামা কমিশনারের সামনে করা একটি হলফনামা, যেখানে সাধারণত দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ঘোষণা করেন যে তাঁরা নিজেদের ইচ্ছায় বিয়ে করেছেন। কিছু ক্ষেত্রে কাগজটি কাজে লাগে, কিন্তু এটি বিয়েও নয়, নিবন্ধনও নয়। যাঁদের কেবল হলফনামা আছে, কাবিননামা নেই — পারিবারিক আদালতের চোখে তাঁরা ঠিক সেই মিরপুরের দম্পতির জায়গাতেই আছেন।
এই লেখার প্রতিটি সমস্যাই আসলে পরিকল্পনার সমস্যা। যেসব পরিবার মোহর, কাগজপত্র, প্রত্যাশা আর দম্পতি কোথায় থাকবেন — এসব নিয়ে খোলাখুলি কথা বলে নেয়, তারাই রেজিস্ট্রারের টেবিলে এসে বসে তর্ক করার মতো কিছু বাকি না রেখে।
amarjibon-এ প্রতিটি প্রোফাইল এনআইডি ও লাইভনেস সেলফি দিয়ে যাচাই করা, প্রথম বার্তা থেকেই পরিবার যুক্ত থাকতে পারে, আর আপনি সেসব বিষয়েই ফিল্টার করতে পারেন যা মিল ঠিক করে — ধর্মচর্চা, শিক্ষা, নিজ জেলা, কাজ ও সংসার নিয়ে প্রত্যাশা। এটি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই, আর আপনি না চাইলে ফোন নম্বর গোপন থাকে।
**amarjibon.com-এ বিনামূল্যে প্রোফাইল খুলুন, অথবা অ্যাপটি নামিয়ে নিন Google Play বা App Store থেকে।** বিয়ে, সিরিয়াসভাবে।
ঠিক করে ফেলেছেন খোঁজা শুরু করবেন। কাজের কথাগুলো এখানে। সিরিয়াস হচ্ছি →
এই বিষয়ে পাঠকেরা যা সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করেন।
ফি বিধি দিয়ে নির্ধারিত, হিসাব হয় দেনমোহরের ওপর: ৪ লাখ টাকা মোহর পর্যন্ত প্রতি ১,০০০ টাকায় ১২.৫০ টাকা, সর্বনিম্ন ২০০ টাকা, আর ৪ লাখের ওপরে প্রতি অতিরিক্ত লাখে ১০০ টাকা। অর্থাৎ ৩ লাখ টাকা মোহরে নিবন্ধন খরচ প্রায় ৩,৭৫০ টাকা। যুক্তিসংগত যাতায়াত খরচ ও নকলের ছোট ফি আলাদা। সবসময় রসিদ নেবেন।
সাধারণত যায়। যে এলাকায় বিয়ে হয়েছিল সেই এলাকার লাইসেন্সপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের কাছে সাক্ষী ও অনুষ্ঠানের যেসব প্রমাণ আছে তা নিয়ে আবেদন করতে হয়। সময় গড়ালে ও সাক্ষীদের পাওয়া না গেলে কাজটি কঠিন হয়, তাই এন্ট্রি হয়নি বুঝতে পারলে যত দ্রুত সম্ভব করে ফেলুন।
না। যাকে সাধারণভাবে কোর্ট ম্যারেজ বলা হয় তা নোটারি বা হলফনামা কমিশনারের সামনে করা একটি হলফনামা, যেখানে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের ইচ্ছায় বিয়ের ঘোষণা দেন। এটি নিজে বিয়েও নয়, নিবন্ধনও নয়। বৈধ নিকাহ এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের করা কাবিননামা লাগবেই।
বাংলাদেশে বাস্তবে নিবন্ধন ফি বরপক্ষই দেয়, আর ফির হিসাব হয় তাঁর সম্মত দেনমোহরের ওপর। তালাক নিবন্ধনের ফি দেন যে পক্ষ প্রক্রিয়া শুরু করেন। এতে দেনমোহরের মালিকানা বদলায় না — সেটি কেবল কনেরই।

ভরণপোষণ, সদাচরণ, পরামর্শ, সম্মতি আর স্ত্রীর নিজের আয় ও মোহরের অধিকার — কে কার কাছে কী পাওনা, ওয়াজ ছাড়াই।

প্রথম প্রস্তাব থেকে ওয়ালিমা পর্যন্ত: নিকাহ কীসে শুদ্ধ হয়, ওলি কে, দেনমোহর ও কাবিননামা কীভাবে কাজ করে, আর প্রতিটি ধাপে বাংলাদেশের আইন কী চায়।

প্রস্তাব আর গ্রহণই আসলে বিয়ে। কী বলতে হয়, কেন এক মজলিসেই হতে হয়, সাক্ষীদের কী শুনতে হয়, আর যে ভুলগুলোর কারণে পরিবারগুলোকে আবার নিকাহ পড়াতে হয়।
যাচাই করা প্রোফাইল, অভিভাবক স্বাগত, আর আপনি না বলা পর্যন্ত কিছুই শেয়ার হয় না। দেখতে কোনো খরচ নেই।
ফ্রি প্রোফাইল বানান