নিউ জার্সিতে বাংলাদেশি ম্যাট্রিমনি: প্যাটারসন, আটলান্টিক সিটি ও তার বাইরে
নিউ জার্সিতে বাংলাদেশিদের তিনটি আলাদা জগৎ — প্যাটারসনের করিডোর, কর্মজীবী আটলান্টিক সিটি আর পেশাজীবীদের শহরতলি। প্রতিটিতে পরিবারগুলো কীভাবে খুঁজছে, আর হাডসন নদী কেন দেয়াল হওয়া উচিত নয়।
প্যাটারসনের ইউনিয়ন অ্যাভিনিউতে এক মুদি দোকানি কাউন্টারের পেছনে একটি খাতা রাখেন। বাকির খাতা নয়। ওতে নাম লেখা — কার ছেলে ফার্মেসি শেষ করল, কার মেয়ে রাটগার্স থেকে ফিরল, সাউথ প্যাটারসনের কোন পরিবার পাত্র-পাত্রী খুঁজছে। চার দশক ধরে সম্বন্ধের কাজ এমন কাউন্টারের ওপর দিয়েই চলেছে, আর মানুষ যতটা ভাবে, এখনো তা তার চেয়ে ভালো কাজ করে।
তবে যা এটি পারে না, তা হলো পুরো রাজ্যে পৌঁছানো। নিউ জার্সিতে বাংলাদেশিদের বিয়ের বাজারে অন্তত তিনটি জনগোষ্ঠী আছে, যারা একে অপরের সঙ্গে প্রায় কথাই বলে না: উত্তরে প্যাটারসন করিডোর, আটলান্টিক সিটির কর্মজীবী সমাজ, আর মধ্য নিউ জার্সির শহরতলিতে ছড়ানো পেশাজীবী পরিবার। প্রত্যেকের ছন্দ আলাদা, আর বেশিরভাগ পরিবার খোঁজে কেবল একটির ভেতরেই।
এক নিউ জার্সি নয়, তিনটি
আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য বিশ্লেষণ করে পিউ রিসার্চ সেন্টার বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষ প্রায় ২,৭০,০০০ জন, আর নিউ ইয়র্ক মেট্রো এলাকায় প্রায় ১,১০,০০০ জন — এই হিসাবের ভেতরে উত্তর নিউ জার্সির কাউন্টিগুলোও পড়ে। জাতীয় ছবিটি জানতে চাইলে পিউয়ের পূর্ণ ফ্যাক্ট শিটটি পড়ার মতো।
এই একটি কথাই এই লেখার সবচেয়ে জরুরি। পরিসংখ্যানের হিসাবে উত্তর নিউ জার্সি নিউ ইয়র্ক থেকে আলাদা কোনো বাজার নয়; একই বাজারের অংশ। যে পরিবারগুলো এটি বোঝে, তাদের বিকল্প বাকিদের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।
প্যাটারসন ও ইউনিয়ন অ্যাভিনিউ করিডোর
যুক্তরাষ্ট্রের সেনসাস ব্যুরোর কুইকফ্যাক্টস অনুযায়ী প্যাটারসন প্রায় ১,৬১,০০০ মানুষের শহর, আর এখানকার দক্ষিণ এশীয় ও মধ্যপ্রাচ্যীয় জনগোষ্ঠী মূলত শহরের দক্ষিণ অংশে। বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ইউনিয়ন অ্যাভিনিউ ও আশপাশের রাস্তাগুলো ধরে — মুদি দোকান, রেস্তোরাঁ, মসজিদ, বাংলাভাষী এক বাণিজ্যিক জীবন, যা জ্যাকসন হাইটস থেকে আসা কারও কাছে সঙ্গে সঙ্গেই চেনা লাগবে।
এখানকার পরিবারগুলো সাধারণত থিতু, কয়েক প্রজন্মের, আর কুইন্স ও ব্রুকলিনের আত্মীয়দের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। সম্বন্ধ আসে আত্মীয় ও মসজিদের মাধ্যমে, আর সুনাম-দুর্নাম দ্রুত ছড়ায়। এর শক্তি হলো প্রকৃত যাচাই। দুর্বলতা হলো, প্যাটারসনের একজন তরুণের সামনে প্রায়ই সেই বিশটি নামই থাকে, যেগুলো পাঁচ বছর আগে তার কাজিনের সামনেও ছিল।
আটলান্টিক সিটি, আর কাজের ভিন্ন এক ছন্দ
আটলান্টিক সিটি ছোট শহর — সেনসাস কুইকফ্যাক্টস অনুযায়ী বাসিন্দা প্রায় ৩৯,০০০, যাঁদের প্রায় ১৫.৫ শতাংশ এশীয়। এখানকার বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী এত বড় যে মূল রাস্তাগুলোতেই তাদের উপস্থিতি চোখে পড়ে, আর এই সমাজ গড়ে উঠেছে ক্যাসিনো, আতিথেয়তা ও সেবা খাতের কাজ ঘিরে — বিশ্ববিদ্যালয় বা পেশাগত পথ ধরে নয়।
এটি এখানকার বিয়েকেও আলাদা করে গড়ে তোলে, আর সেটি বলে রাখা দরকার। শিফটের কাজ বাস্তব প্রশ্নগুলোকে আরও ধারালো করে: সন্ধ্যায় ঘরে কে থাকবে, ঘুরে ঘুরে ডিউটির মধ্যে সন্তান দেখাশোনা কীভাবে হবে, ভালো কাজের জন্য কেউ উত্তরে যাবেন কি না। এগুলোকে ছোট বিষয় ভাবার সুযোগ নেই। বিয়ের বাজেটের চেয়ে সংসারের চেহারা এসবই বেশি ঠিক করে।
শহরতলি: পেশাজীবী পরিবার আর নীরব খোঁজ
তৃতীয় নিউ জার্সিটি শহরতলির — মিডলসেক্স কাউন্টির মনরো টাউনশিপ, এডিসন, পিসকাটাওয়ের মতো জায়গা, আর বার্গেন ও হাডসন কাউন্টির কিছু অংশ। এখানে বেশিরভাগই সেসব পরিবার, যারা স্কুল ও জায়গার টানে সরে এসেছে — চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ফার্মাসিস্ট, অ্যাকাউন্ট্যান্ট, আইটি পেশাজীবী।
এখানকার সমস্যা প্যাটারসনের ঠিক উল্টো। কোনো করিডোর নেই, মুদি দোকানির খাতা নেই, অনেক সময় আশপাশে বাংলাদেশি নেটওয়ার্কই নেই। শহরতলির কোনো পরিবার হয়তো পুরো রাস্তার একমাত্র বাংলাদেশি ঘর — যা এই একটি দিক ছাড়া সব দিক থেকেই আরামের। এই পরিবারগুলোর জন্য অনলাইনে খোঁজা বাড়তি কিছু নয়; ওটাই মূল খোঁজ।
হাডসনকে দেয়াল বানাবেন না
যানজট না থাকলে প্যাটারসন থেকে জ্যাকসন হাইটস এক ঘণ্টারও কম। জার্সি সিটি থেকে কেনসিংটন সামান্য পথ। অথচ দুই পাড়ের পরিবারই নদীর ওপারের সম্বন্ধকে এমনভাবে বর্ণনা করে যেন সেটা দেশান্তরের ব্যাপার।
ভৌগোলিক প্রশ্নের বদলে বাস্তব প্রশ্নটি করুন: দুই পরিবারের দূরত্ব আসলে কত, আর বিয়ের আগে দুজন ও দুই পরিবার কত ঘন ঘন দেখা করতে পারবে? এই মাপকাঠিতে নিউ ইয়র্ক আলাদা বাজার নয় — আপনারই বাজারের বাকি অর্ধেক। কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসের জনগোষ্ঠীর গড়ন আর সেখানকার পরিবারগুলো কী চায়, তা আছে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি ম্যাট্রিমনি লেখায়।
পাত্র বা পাত্রী এখনো বাংলাদেশে বা অন্য দেশে থাকলে পরিকল্পনার দিকগুলো আছে প্রবাসী ম্যাট্রিমনি লেখায়।
নিউ জার্সির পরিবারগুলো কী দেখে
- অভিবাসন স্ট্যাটাস, স্পষ্ট করে বলা। নাগরিক, গ্রিন কার্ডধারী, এইচ-১বি, এফ-১, নাকি প্রক্রিয়াধীন। এটিই প্রথম বাস্তব প্রশ্ন, আর জিজ্ঞেস করা অভদ্রতা নয়।
- দেশের বাড়ি ও পারিবারিক পরিচয়। জেলা, উপজেলা, আর নদীর দুই পাড়ে দুই পরিবারের সাধারণ পরিচিতজন কারা।
- ধর্মচর্চার মাত্রা। নিয়মিত আমল করেন, মাঝামাঝি, নাকি সাংস্কৃতিকভাবে মুসলিম। প্যাটারসনের ঘর আর শহরতলির ঘরের মধ্যে এই ব্যবধান দুই পক্ষের ধারণার চেয়েও বড় হতে পারে।
- কাজের ধরন, কেবল পদবি নয়। শিফটের কাজ, যাতায়াতের দূরত্ব, আর রাজ্যের ভেতরে কেউ জায়গা বদলাতে রাজি কি না।
- থাকার ব্যবস্থা। বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকা হবে কি না, আর কার বাবা-মায়ের সঙ্গে। শহরতলির বাড়ি আর প্যাটারসনের অ্যাপার্টমেন্ট — দুটোতে প্রথম বছরের চেহারা সম্পূর্ণ আলাদা।
বিয়ের পরিকল্পনা শুরুর আগেই এসবের বেশিরভাগ মীমাংসা হওয়া দরকার। প্রস্তাব যেভাবেই আসুক, বিয়ের আগে যে প্রশ্নগুলো করবেন তালিকাটি দুজনের নিজেদের মধ্যে দেখে নেওয়ার মতো।
নিকাহ যদি বাংলাদেশে হয়
নিউ জার্সির অনেক পরিবার দুই পক্ষের আত্মীয়দের উপস্থিতিতে বাংলাদেশেই নিকাহ পড়ায়। তা করলে অনুষ্ঠানের মতোই কাগজপত্রকেও গুরুত্ব দিন। বিয়ে নিবন্ধন করান, কাবিননামা ঠিকভাবে ইস্যু হয়েছে কি না দেখুন, আর সই করার আগে প্রতিটি নাম ও তারিখ পাসপোর্টের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। পরে বিদেশ থেকে সংশোধন করানো সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।
যুক্তরাষ্ট্রে কোনো আবেদনে জমা দিতে হলে সত্যায়িত ইংরেজি অনুবাদ ও যথাযথ অ্যাটেস্টেশনও লাগবে; তার বিস্তারিত আছে বিয়ের সনদের ইংরেজি অনুবাদ লেখায়। বিদেশ থেকে বিয়ে ও ঠিকভাবে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া নিয়ে এই বাংলা আলোচনাটি ধাপগুলো ধরে ধরে বলে। অভিবাসন আবেদনের সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ে কয়েক বছর আগে কোনো আত্মীয়ের অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা না করে লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
এখানে amarjibon কোথায়
amarjibon দেশে ও প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের জন্যই বানানো একটি ম্যাট্রিমনি প্ল্যাটফর্ম। প্রতিটি প্রোফাইল এনআইডি ও লাইভনেস সেলফি দিয়ে যাচাই করা — প্রবাসে এর গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ ঢাকার কোনো পাড়ায় গিয়ে নিজে খোঁজ নিয়ে আসার সুযোগ আপনার নেই। এটি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই, আর প্রথম আলাপ থেকেই পরিবার যুক্ত থাকতে পারে।
নিউ জার্সির সম্বন্ধে যা সত্যিই মিল ঠিক করে, সেসব ধরেই ফিল্টার করা যায় — নিজ জেলা ও উপজেলা, ধর্মচর্চার মাত্রা, শিক্ষা, পেশা, অভিবাসন স্ট্যাটাস, আর কেউ শুধু রাজ্যের ভেতরে খুঁজছেন, নদীর ওপারেও খুঁজছেন, নাকি সারা দেশে। পেছনে মিলের কাজটি করে PremEngine। প্রোফাইল খোলা বিনামূল্যে, বেশি সুবিধা চাইলে পেইড প্ল্যানও আছে, আর আপনি নিজে না চাইলে ফোন নম্বর গোপন থাকে।
আরও পড়ুন
- টেক্সাসে বাংলাদেশি ম্যাট্রিমনি: ডালাস, হিউস্টন ও অস্টিন
- ব্যবসায়ী পরিবারে বিয়ে: ব্যবসা ও শিল্পের মধ্যে সম্বন্ধ
- বাংলাদেশে দ্বিতীয় বিয়ে: আইনত যে অনুমতি লাগবেই
**amarjibon.com-এ বিনামূল্যে প্রোফাইল খুলুন, অথবা অ্যাপটি নামিয়ে নিন Google Play বা App Store থেকে।** বিয়ে, সিরিয়াসভাবে।