বাংলাদেশে দ্বিতীয় বিয়ে: আইনত যে অনুমতি লাগবেই
স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায় আবার বিয়ে করতে হলে সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি লাগে। ৬ ধারা কী বলে, পরিষদ কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, আর যাঁরা এড়িয়ে যান তাঁদের কী হয়।
নারায়ণগঞ্জের এক নারী খবরটা পেলেন প্রতিবেশীর কাছ থেকে — বেশিরভাগ মানুষ যেভাবে পান। তাঁর স্বামী ছয় মাস আগে অন্য এক জেলায় আবার বিয়ে করেছেন। পরিবার যখন শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় কাবিননামাটি দেখল, দেখা গেল বরের বর্তমান স্ত্রী আছেন কি না — সেই ঘরে লেখা আছে নেই।
এই পরিস্থিতি নিয়ে দুটি কথা সত্য, আর মানুষ প্রায়ই দুটিকে গুলিয়ে ফেলে। বাংলাদেশের আইন দ্বিতীয় বিয়ে নিষিদ্ধ করেনি। কিন্তু আইন আগে একটি নির্দিষ্ট লিখিত অনুমতি নিতে বলেছে, আর সেটি ছাড়া যিনি বিয়ে করেন তিনি এমনভাবে আইন ভাঙেন যার বাস্তব পরিণতি আছে। বাংলাদেশে দ্বিতীয় বিয়ের আইনটি নিচে সরাসরি ভাষায়।
৬ ধারা আসলে কী চায়
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারায় বলা আছে, বিদ্যমান বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় কোনো পুরুষ সালিশি পরিষদের পূর্বানুমতি লিখিতভাবে না নিয়ে আরেকটি বিয়ে করতে পারবেন না। ধারাটির পাঠ বিডিলজ ওয়েবসাইটে আছে, পড়তে কয়েক মিনিটই লাগে।
এখানে পূর্বানুমতি শব্দটিই আসল। বিয়ের পরে নেওয়া অনুমতি, কিংবা দ্বিতীয় বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর করা মীমাংসা — ধারাটি সে ব্যবস্থা রাখেনি। আবার কেবল বর্তমান স্ত্রীর সম্মতিও যথেষ্ট নয়; তাঁর অবস্থান প্রাসঙ্গিক, কিন্তু অনুমতি আসে পরিষদের কাছ থেকে, তাঁর সইয়ের মাধ্যমে নয়।
সালিশি পরিষদ কীভাবে কাজ করে
সালিশি পরিষদ আদালত নয়। এটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে গঠিত ছোট একটি পরিষদ, যার সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, আর দুই পক্ষ একজন করে প্রতিনিধি মনোনয়ন দেন।
- স্বামী নির্ধারিত পদ্ধতিতে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেন, প্রস্তাবিত বিয়ের কারণ এবং বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি নেওয়া হয়েছে কি না তা উল্লেখ করে।
- চেয়ারম্যান আবেদনকারী এবং বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের নিজ নিজ প্রতিনিধি মনোনয়ন দিতে বলেন।
- পরিষদ আবেদনটি বিবেচনা করে এবং প্রস্তাবিত বিয়েটি প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সংগত মনে হলে অনুমতি দিতে পারে।
- অনুমতি শর্তসাপেক্ষেও দেওয়া যেতে পারে, আর সিদ্ধান্তটি লিখিতভাবে রাখা হয়।
- সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট পক্ষ ত্রিশ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সহকারী জজের কাছে রিভিশনের আবেদন করতে পারেন, আর সেই সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
এসব আবেদনে সাধারণত যে পরিস্থিতিগুলোর কথা বলা হয় তার মধ্যে আছে বন্ধ্যাত্ব, শারীরিক অক্ষমতা, দাম্পত্য সম্পর্কে অক্ষমতা, বর্তমান স্ত্রীর মানসিক অসুস্থতা, কিংবা দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের ডিক্রি ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করা। তবে কোনো কারণ উপস্থাপন করা আর তা প্রমাণ করা এক কথা নয়। পরিষদ একমত হতে বাধ্য নয়, আর বিয়েটি প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সংগত কি না — এই শর্তটি নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, প্রকৃত পরীক্ষা।
অনুমতি না নিলে কী হয়
অধ্যাদেশে পরিণতিগুলো সরাসরি বলা আছে, আর সেগুলো বেশিরভাগ মানুষের ধারণার চেয়ে কঠিন।
- পুরো দেনমোহর তৎক্ষণাৎ পাওনা হয়ে যায়। উশুল ও বাকি মিলিয়ে সম্পূর্ণ মোহর তাঁকে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের অবিলম্বে পরিশোধ করতে হয়। না দিলে তা ভূমি রাজস্বের বকেয়ার মতো করে আদায়যোগ্য।
- ফৌজদারি দায়। সর্বোচ্চ এক বছরের সাধারণ কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড।
- বিয়েটি নিবন্ধনযোগ্য নয়। পরিষদের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নিবন্ধন করলে রেজিস্ট্রার আইনের বাইরে কাজ করেন এবং লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকিতে পড়েন।
- প্রথম স্ত্রীর জন্য আইনি ভিত্তি। অধ্যাদেশ লঙ্ঘন করে আরেকটি বিয়ে করা সেই কারণগুলোর একটি, যার ভিত্তিতে স্ত্রী মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে নিজের বিয়ে বিচ্ছেদের আবেদন করতে পারেন।
একটি প্রশ্ন পরিবারগুলো বারবার করে: অনুমতি ছাড়া করা দ্বিতীয় বিয়ে কি আপনাআপনি বাতিল হয়ে যায়? আইন লঙ্ঘনের কারণে তা আপনাআপনি মুছে যায় না; ওপরের পরিণতিগুলো স্বামীর ওপরই বর্তায়, আর নির্দিষ্ট কোনো বিয়ে টিকবে কি না তা ঘটনা ও আইনের প্রশ্ন, যার নিষ্পত্তি করে আদালত। এ বিষয়ে প্রতিবেশীর আত্মবিশ্বাসী মতামত নয়, আইনজীবীর মতামত নিন।
আদালত এই শর্ত বহাল রেখেছেন
অনুমতির এই শর্তটি সময়ে সময়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এবং টিকে গেছে। হাইকোর্ট বিভাগ নিশ্চিত করেছেন যে আরেকটি বিয়ের জন্য সালিশি পরিষদের অনুমতির শর্তটি বৈধ ও সংবিধানসম্মত — দ্য ডেইলি স্টার দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি নিয়ে ওই রায়ের প্রতিবেদনে তা জানিয়েছে।
এই ক্ষেত্রের আইন বদলায়, আর ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটিও আলাদা। এই লেখার কিছুর ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একজন পারিবারিক আইনজীবীর কাছ থেকে বর্তমান অবস্থাটি জেনে নিন।
কাবিননামায় যা লেখা থাকে
নিবন্ধন ফরমে এ বিষয়ে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়। একটি ঘরে লেখা হয় বরের বর্তমান স্ত্রী আছেন কি না এবং সালিশি পরিষদের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না; পরের ঘরে থাকে সেই অনুমতির স্মারক নম্বর ও তারিখ। কনে ও তাঁর পরিবারের জন্য এটিই একমাত্র মুহূর্ত, যখন উত্তরটি লিখিত ও স্বাক্ষরিত অবস্থায় দেখা যায়।
আর ঠিক এ কারণেই এটি বিয়ের পরে নয়, টেবিলে বসেই পড়া উচিত। ঘরগুলো কোথায় আছে তা দেখানো আছে আমাদের কাবিননামা ঘর ধরে ধরে লেখায়, আর কিছু লেখার আগে রেজিস্ট্রারকে কী কী যাচাই করতে হয় তা আছে বাংলাদেশে বিবাহ নিবন্ধন লেখায়।
আপনি প্রথম স্ত্রী, আর সবে জানতে পেরেছেন
- সত্যায়িত নকল সংগ্রহ করুন। আগে নিজের কাবিননামা, আর সম্ভব হলে দ্বিতীয় নিবন্ধনের সত্যায়িত নকলও।
- দেখে নিন কী লেখা হয়েছে — বর্তমান স্ত্রী প্রসঙ্গে এবং পরিষদের অনুমতি প্রসঙ্গে। মিথ্যা এন্ট্রি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- ঘটনার ধারাবাহিকতা তারিখসহ লিখে রাখুন, আর আপনার কাছে থাকা বার্তা, ছবি বা কাগজপত্র সংরক্ষণ করুন।
- দ্রুত আইনি পরামর্শ নিন — পারিবারিক আইনজীবী বা আইনি সহায়তা সংস্থার কাছ থেকে। একসঙ্গে একাধিক দাবি থাকতে পারে — মোহর, ভরণপোষণ ও বিবাহবিচ্ছেদ — আর সেগুলো একসঙ্গে বিবেচনা করাই ভালো।
- আপনি কী চান তা ঠিক করুন, আত্মীয়রা কী চান তা থেকে আলাদা করে। এই অবস্থায় কেউ কেউ নতুন শর্তে সংসার চালিয়ে যেতে চান, কেউ বেরিয়ে আসতে চান। দুটোই বৈধ, আর পথগুলো ব্যাখ্যা করা আছে খোলা ও তালাক লেখায়।
তালাক বা বৈধব্যের পর বিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়
যাঁর আগের বিয়ে শেষ হয়ে গেছে, তাঁর ক্ষেত্রে ওপরের কিছুই প্রযোজ্য নয়। বিয়ে বিচ্ছেদ হয়ে গেলে বা স্বামী-স্ত্রীর একজন মারা গেলে বহাল কোনো বিবাহ থাকে না, ফলে পরিষদের অনুমতিও লাগে না — সাধারণ নিবন্ধন প্রক্রিয়াই চলে, সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে তালাকের সনদ বা মৃত্যুসনদ। এই পরিস্থিতি এবং পরিবারগুলোর সৎভাবে তা সামলানোর উপায় আছে বাংলাদেশে তালাকের পর পুনর্বিবাহ লেখায়।
বৈবাহিক অবস্থা নিয়ে সততা ঐচ্ছিক নয়
এই লেখার প্রায় প্রতিটি ঘটনার শুরু একই জায়গায়: আগে থেকে থাকা একটি বিয়ের কথা কাউকে সত্য করে বলা হয়নি। এটি আইনের প্রশ্ন হওয়ার আগে চরিত্রের প্রশ্ন, আর সম্বন্ধের সময় লুকিয়ে রাখা বিষয়গুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে ক্ষতিকর।
amarjibon-এ প্রতিটি প্রোফাইল এনআইডি ও লাইভনেস সেলফি দিয়ে যাচাই করা, বৈবাহিক অবস্থা প্রোফাইলেরই অংশ — পরে আবিষ্কার করার বিষয় নয় — আর প্রথম বার্তা থেকেই পরিবার যুক্ত থাকতে পারে। যেসব বিষয় মিল ঠিক করে সেগুলো ধরে ফিল্টার করা যায় — ধর্মচর্চা, শিক্ষা, নিজ জেলা, কাজ ও সংসার নিয়ে প্রত্যাশা। এটি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই, আর আপনি না চাইলে ফোন নম্বর গোপন থাকে।
আরও পড়ুন
- উশুল ও বাকি দেনমোহর: কোনটা কখন, পরিষ্কার করে
- ইসলামে স্বামী ও স্ত্রীর অধিকার: সহজ একটি তালিকা
- ইদ্দত: পুনর্বিবাহের আগে অপেক্ষার সময়টি আসলে কতদিন
**amarjibon.com-এ বিনামূল্যে প্রোফাইল খুলুন, অথবা অ্যাপটি নামিয়ে নিন Google Play বা App Store থেকে।** বিয়ে, সিরিয়াসভাবে।