তালাক, খুলা ও ফাসখ: মুসলিম বিয়ে শেষ হওয়ার তিনটি পথ
কে কোনটি শুরু করেন, দেনমোহরের কী হয়, আর মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-র সালিশি পরিষদের প্রক্রিয়া তিনটির ওপরেই কীভাবে বসে।
কে কোনটি শুরু করেন, দেনমোহরের কী হয়, আর মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-র সালিশি পরিষদের প্রক্রিয়া তিনটির ওপরেই কীভাবে বসে।

নারায়ণগঞ্জের এক নারী তাঁর ভাইকে বলেছিলেন, তিন বছরের সংসারটি থেকে তিনি বেরিয়ে আসতে চান। ভাই তাঁকে বললেন, স্ত্রী হিসেবে বিয়ে শেষ করার কোনো উপায় তাঁর নেই, স্বামীর সিদ্ধান্তের জন্যই অপেক্ষা করতে হবে। কথাটি ভুল ছিল — আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এবং সরল বিশ্বাসেই বলা ভুল। এই কথোপকথনের নানা সংস্করণ বাংলাদেশের ঘরে ঘরে প্রতি সপ্তাহেই ঘটে।
মুসলিম বিয়ে তিনটি ভিন্ন উপায়ে শেষ হতে পারে, আর কোনটি প্রযোজ্য তা জানা থাকলে পরের সবকিছুই বদলে যায় — কে প্রক্রিয়া শুরু করবেন, দেনমোহরের কী হবে, কত সময় লাগবে, আর পারিবারিক আদালত কী গ্রহণ করবে। বিশেষ করে খুলা আর তালাকের পার্থক্যেই সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি। প্রতিটি কী, আর তিনটির ওপরেই বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে বসে — সবই এখানে।
চতুর্থ একটি পথও আছে, যা বাংলাদেশের বেশিরভাগ নারীরই আছে অথচ খুব কম মানুষ জানেন — কাবিননামাতেই লিখে দেওয়া তালাকের অর্পিত অধিকার। নিচে সে প্রসঙ্গে আসছি, কারণ এই লেখার সবচেয়ে কাজের কথাটি সেটিই।
তালাক স্বামীর উচ্চারণ। ধর্মীয়ভাবে একে বৈধ বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে অপছন্দনীয় বলা হয়েছে, আর ধ্রুপদী কাঠামোটিই তৈরি হয়েছে একে ধীর করার জন্য: উচ্চারণগুলো সময়ের ব্যবধানে হওয়ার কথা, যাতে দম্পতি আবার ভেবে দেখার সুযোগ পান।
বাংলাদেশের আইন সেই বিরতিটিকে বাধ্যতামূলক করেছে। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৭ ধারা অনুযায়ী, তালাক দেওয়ার পর স্বামীকে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত নোটিশ দিতে হয় এবং স্ত্রীকে তার একটি অনুলিপি দিতে হয়। নোটিশের তারিখ থেকে ৯০ দিন পার না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হয় না, আর এই সময়ে মীমাংসার চেষ্টায় সালিশি পরিষদ বসে। স্ত্রী গর্ভবতী হলে সন্তান জন্মের আগে তা কার্যকর হয় না। নোটিশ না দেওয়া অপরাধ, আর এতে স্বামীর নিজের অবস্থানও কাগজে দুর্বল থেকে যায়।
যে বাস্তব দিকটি মানুষ খেয়াল করে না: ঝগড়ার মাঝে বলা যে তালাকের কোনো নোটিশ কখনো দেওয়া হয়নি, তা পরিষ্কার সমাপ্তি নয় — আইনি জটিলতা। প্রথম আলো তুলে ধরেছে ডিভোর্সের যে আইনগুলো জানা প্রয়োজন, আর এর মধ্যে নোটিশের শর্তটিই সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত হয়।
খুলা স্ত্রীর পথ। তিনি বিয়ে থেকে অব্যাহতি চান, আর তা সমঝোতার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। যেহেতু তিনিই এমন একটি চুক্তি শেষ করতে চাইছেন যাতে তাঁর সুবিধা আছে, ধ্রুপদী অবস্থান হলো তিনি বিনিময়ে কিছু ফিরিয়ে দেবেন — সাধারণত মোহর, বা তার অংশবিশেষ, বা আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত কোনো অঙ্ক।
তিনটি বিষয় স্পষ্ট থাকা দরকার।
ফাসখ মানে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে বাতিল, আর বাংলাদেশে তা চলে মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী। এতে স্বামীর সম্মতি লাগে না। স্বীকৃত কারণগুলোর মধ্যে আছে স্বামী চার বছর নিখোঁজ থাকা, দুই বছর ভরণপোষণ না দেওয়া, দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া দাম্পত্য দায়িত্ব পালন না করা, এবং নিষ্ঠুর আচরণ।
যে নারীর স্বামী তালাকও দেবেন না, খুলাতেও রাজি হবেন না — এটিই তাঁর পথ। এটি ধীর, আর আইনজীবী লাগে, কিন্তু পথটি আছে; আর স্বামী সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত স্ত্রী আটকে থাকেন — এমন ধারণা আইনসম্মত নয়। বাংলাদেশে পারিবারিক আদালতের মামলা অনলাইনে যাচ্ছে, যা নিয়ে প্রথম আলোর এই প্রতিবেদনটি দেখে নিতে পারেন।
তালাকে তাফবিজ মানে বিয়ের সময় স্বামী স্ত্রীকে তালাকের অধিকার অর্পণ করা। এটি কাবিননামায় লেখা থাকে — ১৮ নম্বর ঘরে জিজ্ঞেস করা হয়, অধিকারটি অর্পণ করা হয়েছে কি না এবং কোন শর্তে।
বাংলাদেশের অসংখ্য বিয়েতে ঘরটি ফাঁকা থেকে যায়, নয়তো টেবিলে কেউ খেয়াল না করার ফাঁকে "না" লিখে দেওয়া হয়। যেখানে "হ্যাঁ" লেখা থাকে, সেখানে স্ত্রী সেই অর্পিত অধিকার প্রয়োগ করে স্বামীর মতোই নোটিশ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারেন — এর জন্য স্বামীর সম্মতি বা আদালত লাগে না। সই করার টেবিলে দেওয়া দশ সেকেন্ড পরের বছরগুলোর অনেক ভোগান্তির চেয়ে দামি। কোন ঘরে কী বোঝায় তা ধরে ধরে দেখানো আছে কাবিননামা ঘর ধরে ধরে লেখায়।
বিয়ে করতে যাচ্ছেন? সই করার আগে ১৮ নম্বর ঘরটি পড়ুন। বিয়ে হয়ে গেছে? কাবিননামা বের করে এখনই পড়ুন। কী লেখা আছে তা জানতে কোনো খরচ নেই; না জানার খরচ বহু নারীকে বহুভাবে দিতে হয়েছে।
প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাস্তব প্রশ্নটি এটিই, আর উত্তর নির্ভর করে বিয়েটি কোন দরজা দিয়ে শেষ হলো তার ওপর।
দুটি সতর্কতা। প্রথমত, বছরের পর বছর কেউ মুখে না আনলেই বকেয়া মোহর মুছে যায় না; আদায়ের পথ আছে বকেয়া দেনমোহর ও আইনি আদায় লেখায়। দ্বিতীয়ত, বাস্তবে পরিশোধ না হয়ে থাকলে মোহর "সম্পূর্ণ পরিশোধিত" লেখা কোনো কাগজে কখনো সই করবেন না। ওই একটি সই যেকোনো তর্কের চেয়ে কার্যকরভাবে দাবিটি বন্ধ করে দেয়।
তালাক কার্যকর হওয়ার পর নারী ইদ্দত পালন করেন — সাধারণত তিনটি ঋতুচক্র, ঋতুচক্র প্রযোজ্য না হলে তিন মাস, আর গর্ভবতী হলে সন্তান জন্ম পর্যন্ত। এতে বংশপরিচয় নিশ্চিত হয় এবং এমন একটি সময় তৈরি হয় যখন দম্পতি চাইলে ফিরে আসতে পারেন; রাজয়ি তালাকের ক্ষেত্রে এই সময়ের মধ্যে নতুন চুক্তি ছাড়াই সংসার শুরু করা যায়। সময়ের হিসাবগুলো বিস্তারিত আছে ইদ্দত কী ও কতদিন লেখায়।
কাগজপত্রের দিক থেকে, বিয়ের মতো তালাকও একই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত হয় — মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী। সবকিছুর সইমোহরকৃত কপি নিন এবং এমন জায়গায় রাখুন যেখানে কারও অনুমতি ছাড়াই আপনার হাত পৌঁছায় — কাবিননামা, নোটিশ, তালাকের নিবন্ধন। পুনরায় বিয়ে, সন্তানের কাগজপত্র, কিংবা মোহর ও ভরণপোষণের দাবির ক্ষেত্রে পরে এই কাগজগুলোই কাজে লাগে।
এর কোনোটিই আইনি পরামর্শ নয়, আর প্রতিটি ঘটনার নিজস্ব খুঁটিনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একজন পারিবারিক আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন, আর ২০১৬ সালে কোনো আত্মীয়ের ক্ষেত্রে যা হয়েছিল তার ওপর ভরসা না করে বর্তমান প্রক্রিয়া যাচাই করে নিন।
বাংলাদেশে তালাকের সঙ্গে যে সামাজিক গ্লানি জড়িয়ে আছে, ধর্ম তা চাপিয়ে দেয়নি। তালাকের পর আবার বিয়ে করা স্বাভাবিক, উৎসাহিত এবং একেবারেই সাধারণ ঘটনা — আর এ নিয়ে যে নীরবতা, তার তুলনায় এটি অনেক বেশি প্রচলিত। কী আশা করবেন আর কীভাবে সৎভাবে এগোবেন, তা আছে বাংলাদেশে তালাকের পর পুনর্বিবাহ লেখায়।
amarjibon দেশে ও প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য তৈরি একটি ম্যাট্রিমনি প্ল্যাটফর্ম, আর এখানে তালাকপ্রাপ্ত ও বিধবা সদস্যরা কোনো শর্ত ছাড়াই স্বাগত। প্রতিটি প্রোফাইল এনআইডি ও লাইভনেস সেলফি দিয়ে যাচাই করা, প্রথম আলাপ থেকেই পরিবার যুক্ত থাকতে পারে, আর প্ল্যাটফর্মটি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই। ধর্মচর্চার মাত্রা, শিক্ষা, পেশা, নিজ জেলা ও বৈবাহিক অবস্থা ধরে ফিল্টার করা যায়, আর আপনি না চাইলে ফোন নম্বর গোপন থাকে। প্রোফাইল খোলা বিনামূল্যে।
**amarjibon.com-এ বিনামূল্যে প্রোফাইল খুলুন, অথবা অ্যাপটি নামিয়ে নিন Google Play বা App Store থেকে।** বিয়ে, সিরিয়াসভাবে।
ঠিক করে ফেলেছেন খোঁজা শুরু করবেন। কাজের কথাগুলো এখানে। সিরিয়াস হচ্ছি →
এই বিষয়ে পাঠকেরা যা সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করেন।
তালাক শুরু করেন স্বামী, আর স্ত্রী তাঁর মোহর পান — বাকি অংশসহ, যা তখন পরিশোধযোগ্য হয়ে যায়। খুলা শুরু করেন স্ত্রী এবং তা সমঝোতায় সম্পন্ন হয়, সাধারণত তিনি মোহর বা তার আলোচিত অংশ ফিরিয়ে দেন বা ছেড়ে দেন। বাংলাদেশে দুটির ক্ষেত্রেই একই নোটিশ ও সালিশ প্রক্রিয়া প্রযোজ্য।
হ্যাঁ, দুটি পথে। কাবিননামায় তাঁকে তালাকের অধিকার অর্পণ করা থাকলে তিনি সরাসরি তা প্রয়োগ করে নোটিশ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারেন। অর্পণ করা না থাকলে স্বীকৃত কারণে মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ অনুযায়ী পারিবারিক আদালতে আবেদন করতে পারেন। নিজের পরিস্থিতি নিয়ে একজন পারিবারিক আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-র ৭ ধারা অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া তালাক চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ পৌঁছানোর ৯০ দিন পর কার্যকর হয়, যদি এর মধ্যে তা প্রত্যাহার না করা হয়। স্ত্রী গর্ভবতী হলে সন্তান জন্মের আগে তা কার্যকর হয় না। আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদে সময় বেশি লাগে এবং তা মামলার ওপর নির্ভর করে।
এ নিয়ে আলেমদের মত ভিন্ন, আর উত্তর নির্ভর করে ব্যক্তির অবস্থা ও ঠিক কী বলা হয়েছিল তার ওপর — তাই এটি পারিবারিক মতামতের নয়, একজন যোগ্য আলেমের কাছে জিজ্ঞাসার বিষয়। আলাদাভাবে, বাংলাদেশের আইনে লিখিত নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর ধরা হয় না, তাই ধর্মীয় ও আইনি — দুই দিকই ঠিকভাবে যাচাই করা দরকার।

ভরণপোষণ, সদাচরণ, পরামর্শ, সম্মতি আর স্ত্রীর নিজের আয় ও মোহরের অধিকার — কে কার কাছে কী পাওনা, ওয়াজ ছাড়াই।

প্রথম প্রস্তাব থেকে ওয়ালিমা পর্যন্ত: নিকাহ কীসে শুদ্ধ হয়, ওলি কে, দেনমোহর ও কাবিননামা কীভাবে কাজ করে, আর প্রতিটি ধাপে বাংলাদেশের আইন কী চায়।

প্রস্তাব আর গ্রহণই আসলে বিয়ে। কী বলতে হয়, কেন এক মজলিসেই হতে হয়, সাক্ষীদের কী শুনতে হয়, আর যে ভুলগুলোর কারণে পরিবারগুলোকে আবার নিকাহ পড়াতে হয়।
যাচাই করা প্রোফাইল, অভিভাবক স্বাগত, আর আপনি না বলা পর্যন্ত কিছুই শেয়ার হয় না। দেখতে কোনো খরচ নেই।
ফ্রি প্রোফাইল বানান